ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ইরাকি জনগণ, বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের অভিনন্দন জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য মোতায়েন করা মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের ইরাক মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়া দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজেদের হাতে থাকা উচিত।
আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা মোতায়েন করা হয়। ইরাকে ২০১৭ সালে এবং সিরিয়ায় ২০১৯ সালে আইএসের আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটে। এরপরও সংগঠনটির অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে জোটের সেনারা দুই দেশে অবস্থান করছিল।
২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র জোটের সামরিক মিশন পর্যায়ক্রমে শেষ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছায়। এর পর থেকে ইরাকের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে জোটের সেনা সরিয়ে নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যায়ে তাদের উপস্থিতি মূলত দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে সীমিত ছিল।
এদিকে ইরাক সরকার মনে করছে, আন্তর্জাতিক জোটের সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ধরে রাখার অন্যতম যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সরকার এসব গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং এর জন্য ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








