বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে নতুন বাজার ও পণ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে দুই দেশের বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে তৈরি পোশাকশিল্পের বিভিন্ন কাঁচামালসহ নানা পণ্য আমদানি করলেও বিপরীতে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি তুলনামূলক কম—এ বিষয়টি তুলে ধরে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি পাকিস্তান থেকে পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক ও রং আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের পাটের সুতা ও ওষুধের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার এসব প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়। হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা পাকিস্তান সফর করলে দেশটির বড় আমদানিকারক, ব্র্যান্ড, ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দুই দেশের বাজারে পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে সাফটা কাঠামোর আওতায় কিছু বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর এসব সুবিধায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা থাকায় ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখতে বিশেষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যব্যবস্থা বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়।
পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সময় বেশি লাগায় শিপিং ও লজিস্টিকসের বিভিন্ন বাধা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া টেক্সটাইল, পোশাক ও ফ্যাশন খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এবং পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ও টেক্সটাইল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার্থী বিনিময়, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান আদান-প্রদানের প্রস্তাব দেন।
টেক্সটাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দুই দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনাও বৈঠকে আলোচিত হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে পারস্পরিক যোগাযোগ ও উদ্যোগ বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















