বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হতে ভারত থেকে আমদানি করা ১৮টি রেলকোচ দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা নীলফামারীর সৈয়দপুরে পৌঁছেছে। শনিবার ভোর ৫টার দিকে কোচগুলো কারখানায় পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক পরীক্ষা, কমিশনিং ও ট্রায়াল রান শেষে কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত করা হবে। নতুন কোচ যুক্ত হলে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সংকট অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং কোচের সংকট মোকাবিলায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেডের মাধ্যমে এসব কোচ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০০টি ব্রডগেজ রেলকোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে চার ধরনের ১৮টি কোচ এসেছে।
প্রথম চালানে আসা কোচগুলোর মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার, তিনটি এসি চেয়ার, দুটি এসি স্লিপার এবং দুটি এসি পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডদের জন্য পৃথক কামরা ও যাত্রীদের মালামাল পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালায় অবস্থিত রেলকোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা হয়েছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রেলবহরে যুক্ত হবে কোচ
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নূর মোহাম্মদ বাসসকে জানান, কারখানায় পৌঁছানো কোচগুলো এখনো খোলা হয়নি। শিগগিরই কোচগুলো খুলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, এ কার্যক্রমে রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভারতের বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেবেন। যান্ত্রিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর কোচগুলো দিয়ে ট্রায়াল রান পরিচালনা করা হবে। এরপর সেগুলো রেলওয়ের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কোচগুলোর কমিশনিং ও ট্রায়াল রান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, প্রশিক্ষিত ক্রু, টুলভ্যান এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চিলাহাটি-কক্সবাজার রুটে আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান নতুন কোচগুলো দিয়ে সরাসরি চিলাহাটি-কক্সবাজার পর্যটন রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুত কোচগুলো রেলবহরে যুক্ত করা গেলে বিদ্যমান কোচসংকট কমবে এবং যাত্রীসেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রেলওয়ের বহরে নতুন কোচ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য উন্নত ও আরামদায়ক ট্রেনসেবা নিশ্চিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কোচগুলো কবে থেকে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ট্রায়াল রান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ খবর ও উন্নয়নসংক্রান্ত প্রতিবেদন
রংপুর প্রতিনিধি 





















