সিলেটে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা ও বিকাশে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’। বই ও গাইড সংগ্রহ করে বিনামূল্যে বিতরণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বর্তমানে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে বই ও গাইড দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা বই ও গাইডের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ টাকা। এ ছাড়া সংগঠনটির Project WishBox-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় উপহার ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা পেয়েছে।
বই ও গাইড পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল সংগঠনটির প্রাথমিক লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী পুরোনো বই সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বইয়ের পরিচিতি ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট কোড ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষ শেষে বই ফেরত নিয়ে পুনরায় অন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগও রয়েছে।
সংগঠনটির আরেকটি উদ্যোগ Project WishBox। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা জানতে চিঠি বা আবেদন সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর সামর্থ্য ও প্রাপ্য সম্পদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হয়।
‘বই দরকার ভাদেশ্বর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আদনান খাঁন আদিব বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো—তাদের একজন অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়তা করা। বই ও গাইড সংগ্রহ এবং বিতরণ দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলেও এখন আমরা বিনামূল্যে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা ও Project WishBox-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের অংশ হয়ে একটি আদর্শ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে চাই। সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করার চেষ্টা করছি।”
চারজনকে নিয়ে শুরু হওয়া সংগঠনটির সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন ৫০ জনের বেশি সদস্য। প্রতিষ্ঠাতার ভাষ্য, ইচ্ছাশক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগঠনটি শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে এসেছে। সবার দোয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংগঠনটির।
শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি 



















