ঢাকা ০৮:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচাতে আফগানিস্তানের মুখোমুখি বাংলাদেশ, কঠিন সমীকরণে সিমন্সের দল সুন্দরবনে হরিণ শিকারের অভিযোগে আটক ১, জব্দ ফাঁদ ও হরিণের খণ্ডিত মাথা কালিগঙ্গা নদীতে ট্রলারডুবি; ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় ১০ একর পাহাড়ি জমিতে ১০ হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা ২৫৫ ইউরো সিলেটে ৫০ শিক্ষার্থীর হাতে লক্ষাধিক টাকার বই-গাইড তুলে দিয়েছে ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’ যশোরের শার্শায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগ, এলাকায় আতঙ্ক; থানায় জিডি প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, অবিলম্বে কার্যকর মহানবমীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সিলেটে ৫০ শিক্ষার্থীর হাতে লক্ষাধিক টাকার বই-গাইড তুলে দিয়েছে ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’

সিলেটে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা ও বিকাশে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’। বই ও গাইড সংগ্রহ করে বিনামূল্যে বিতরণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বর্তমানে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে বই ও গাইড দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা বই ও গাইডের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ টাকা। এ ছাড়া সংগঠনটির Project WishBox-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় উপহার ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা পেয়েছে।

 

বই ও গাইড পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল সংগঠনটির প্রাথমিক লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী পুরোনো বই সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বইয়ের পরিচিতি ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট কোড ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষ শেষে বই ফেরত নিয়ে পুনরায় অন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগও রয়েছে।

 

সংগঠনটির আরেকটি উদ্যোগ Project WishBox। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা জানতে চিঠি বা আবেদন সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর সামর্থ্য ও প্রাপ্য সম্পদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হয়।

 

‘বই দরকার ভাদেশ্বর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আদনান খাঁন আদিব বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো—তাদের একজন অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়তা করা। বই ও গাইড সংগ্রহ এবং বিতরণ দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলেও এখন আমরা বিনামূল্যে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা ও Project WishBox-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের অংশ হয়ে একটি আদর্শ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে চাই। সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করার চেষ্টা করছি।”

 

চারজনকে নিয়ে শুরু হওয়া সংগঠনটির সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন ৫০ জনের বেশি সদস্য। প্রতিষ্ঠাতার ভাষ্য, ইচ্ছাশক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগঠনটি শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে এসেছে। সবার দোয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংগঠনটির।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

সাভারে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

সিলেটে ৫০ শিক্ষার্থীর হাতে লক্ষাধিক টাকার বই-গাইড তুলে দিয়েছে ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’

Update Time : ০৬:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সিলেটে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসহায়তা ও বিকাশে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠন ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’। বই ও গাইড সংগ্রহ করে বিনামূল্যে বিতরণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বর্তমানে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটির উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে বই ও গাইড দেওয়া হয়েছে। বিতরণ করা বই ও গাইডের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ টাকা। এ ছাড়া সংগঠনটির Project WishBox-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৮ জন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় উপহার ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা পেয়েছে।

 

বই ও গাইড পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল সংগঠনটির প্রাথমিক লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী পুরোনো বই সংগ্রহ করে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বইয়ের পরিচিতি ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট কোড ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষাবর্ষ শেষে বই ফেরত নিয়ে পুনরায় অন্য শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের উপযোগী করার উদ্যোগও রয়েছে।

 

সংগঠনটির আরেকটি উদ্যোগ Project WishBox। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা জানতে চিঠি বা আবেদন সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর সামর্থ্য ও প্রাপ্য সম্পদের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা হয়।

 

‘বই দরকার ভাদেশ্বর’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আদনান খাঁন আদিব বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো—তাদের একজন অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহায়তা করা। বই ও গাইড সংগ্রহ এবং বিতরণ দিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হলেও এখন আমরা বিনামূল্যে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা ও Project WishBox-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার গঠনে কাজ করতে চাই। পাশাপাশি বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের অংশ হয়ে একটি আদর্শ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে চাই। সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়েও কাজ করার চেষ্টা করছি।”

 

চারজনকে নিয়ে শুরু হওয়া সংগঠনটির সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন ৫০ জনের বেশি সদস্য। প্রতিষ্ঠাতার ভাষ্য, ইচ্ছাশক্তি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগঠনটি শূন্য থেকে আজকের অবস্থানে এসেছে। সবার দোয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে সংগঠনটির।