বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রমবাজারে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তান। বিশেষ করে মধ্য এশিয়ার দেশটিতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে দুই দেশ।
বুধবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকের (এফওসি) ফাঁকে দেশটির তিন মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
কিরগিজস্তানের শ্রম, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিবাসনবিষয়ক প্রথম উপমন্ত্রী আরলেন আলিয়াসোভের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
কিরগিজ পক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে আরও বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। নির্মাণ, বস্ত্র, ওষুধ, ডিজিটাল সেবা, কৃষি ও শিক্ষাদান খাতে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৈঠকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া কর্মসংস্থান ও অভিবাসনবিষয়ক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন কিরগিজ উপমন্ত্রী।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা
কিরগিজস্তানের অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী মেদের তুমানোভের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব।
দুই দেশের তুলনামূলক সুবিধা এবং ইউরেশীয় বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তুলা উৎপাদন, বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ওষুধশিল্পকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।
এ সময় ইউরেশীয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে জেনারেল সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তিতে বাড়তে পারে সুযোগ
কিরগিজস্তানের বিজ্ঞান, উচ্চশিক্ষা ও উদ্ভাবনবিষয়ক মন্ত্রী গুলজাত ইসামাতোভার সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন আসাদ আলম সিয়াম।
আলোচনায় দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কিরগিজস্তানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি উঠে আসে।
কিরগিজ মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব। কিরগিজ মন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বহুমুখী সম্পর্ক গড়ার লক্ষ্য
সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শ্রমবাজারে প্রবেশাধিকার, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের সম্পর্ক আরও বহুমুখী করার আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।
বৈঠকগুলোতে তাসখন্দে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এম মনিরুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজারবিষয়ক প্রতিবেদন | বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক খবর | শিক্ষা ও বৃত্তিবিষয়ক সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















