মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় বোরকা পরে এসে ককটেল বিস্ফোরণের পর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় তাইজুল সরদার (২৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত তাইজুল সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার কুলপদ্বী এলাকার প্রয়াত রুস্তম আলী সরদারের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দুটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। মামলার কারণে তিনি কালকিনিতে তাঁর মামার বাড়িতে থাকতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কালীগঞ্জ বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ওরফে মিলন সরদার এবং তাঁর অনুসারী জহির চৌকিদার ও মহাসিন চৌকিদার।
এ সময় তাইজুল সরদার, আলামিন সরদারসহ কয়েকজন বোরকা পরে সেখানে আসেন। তাঁরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হাফিজুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাফিজুর রহমানকে রক্ষা করতে তাঁর অনুসারীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জহির ও মহাসিন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে তাইজুল ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন।
আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাইজুলকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত জহির ও মহাসিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর আহত আলামিন সরদার মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে বর্তমান চেয়ারম্যান সাহীদ পারভেজ ও তাঁর সমর্থকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের দাবি, হামলাকারীরা এর আগেও তাঁর বাড়িতে আগুন দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করেছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান সাহীদ পারভেজের প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সাহীদ পারভেজ। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা তাঁর অনুসারী নন। নিহত তাইজুলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আগে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরেই এ সংঘর্ষ ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
এ ধরনের আরও রাজনৈতিক ও স্থানীয় ঘটনার খবর পড়তে ভিজিট করুন তথ্য প্রকাশের রাজনীতি বিভাগ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিলেন। জহির ও মহাসিনকে লক্ষ্য করেই মূলত হামলা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নিহত তাইজুল হামলাকারীদের একজন ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চলছে।
সর্বশেষ খবর ও অন্যান্য প্রতিবেদন পড়তে ভিজিট করুন তথ্য প্রকাশের মূল ওয়েবসাইট।
মাদারীপুর প্রতিনিধি 


















