ঢাকা ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মাদারীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ৫ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ মিতিঙ্গাছড়িকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ ও মাদকবিরোধী সচেতনতায় বিতর্ক ও নাটিকা নতুন প্রযুক্তি যেন ঘৃণা-সহিংসতা নয়, টেকসই উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়: রাষ্ট্রদূত আইরিন খান প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থান বাড়াতে নীতি পর্যালোচনা করবে সরকার ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কাজ দেখতে রাতে ছয় প্রেসে শিক্ষামন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন ভারত থেকে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার দুই তরুণী

মিতিঙ্গাছড়িকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়িকে টেকসই উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

 

মঙ্গলবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এসডিজি ভিলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘এসডিজি স্থানীয়করণে অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, মিতিঙ্গাছড়িকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং গ্রামবাসীকে একযোগে কাজ করতে হবে। গ্রামের মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ঋণ সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। মিতিঙ্গাছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম। উপজেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম, জেলা পরিষদ সদস্য উথোয়াই মং মারমাসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মতবিনিময় সভায় মিতিঙ্গাছড়ির বাসিন্দারা গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির সংকট দূর করা, দারিদ্র্য বিমোচন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা, গ্যাস সংকট নিরসন, শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

 

স্থানীয় প্রবীণ, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের চলমান ও পরিকল্পিত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

 

এর আগে কাপ্তাই তথ্য অফিসের উদ্যোগে সভাস্থলে এসডিজি বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

উল্লেখ্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের মডেল হিসেবে রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়িসহ দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার পানখালী ও দিনাজপুরের নাফানগর—এই তিন গ্রামকে নিয়ে এ পাইলট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু

মিতিঙ্গাছড়িকে এসডিজি ভিলেজ হিসেবে গড়তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

Update Time : ০৪:২৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়িকে টেকসই উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

 

মঙ্গলবার সকালে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এসডিজি ভিলেজে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘এসডিজি স্থানীয়করণে অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন।

 

জেলা প্রশাসক বলেন, মিতিঙ্গাছড়িকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং গ্রামবাসীকে একযোগে কাজ করতে হবে। গ্রামের মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ঋণ সহায়তার মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, শুধু চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। মিতিঙ্গাছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম। উপজেলা সহকারী তথ্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফরিদুল আলম, জেলা পরিষদ সদস্য উথোয়াই মং মারমাসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

মতবিনিময় সভায় মিতিঙ্গাছড়ির বাসিন্দারা গ্রামের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানির সংকট দূর করা, দারিদ্র্য বিমোচন, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা, গ্যাস সংকট নিরসন, শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ স্থাপন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন।

 

স্থানীয় প্রবীণ, শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলোর বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা তাদের চলমান ও পরিকল্পিত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

 

এর আগে কাপ্তাই তথ্য অফিসের উদ্যোগে সভাস্থলে এসডিজি বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

 

উল্লেখ্য, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের মডেল হিসেবে রাঙামাটির মিতিঙ্গাছড়িসহ দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার পানখালী ও দিনাজপুরের নাফানগর—এই তিন গ্রামকে নিয়ে এ পাইলট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।