বগুড়ার ধুনট বাজারে মোবাইল ফোনের দোকানে চুরির ঘটনার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে ৯৪টি স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলোর আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।
বুধবার সকালে ধুনট পৌরসভার ইছামতি ডিজিটাল কমপ্লেক্স মার্কেটের প্রথম তলায় ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দোকানের তালা ভেঙে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওই দিন সকাল সোয়া ৮টার দিকে মার্কেটের নৈশপ্রহরী সুলতান হোসেন কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পিঠে ব্যাগ নিয়ে মার্কেট থেকে বের হতে দেখেন। পরে দোকানের ভেতরে গিয়ে তালা ভাঙা ও মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি দোকানের মালিককে বিষয়টি জানান।
চুরির ঘটনায় দোকানের মালিক মো. মাসুদ রানা ধুনট থানায় মামলা করেন। এরপর বগুড়া জেলা পুলিশের নির্দেশনায় ধুনট থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে চোর চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যমুনা সেতু পশ্চিম থানার টোল প্লাজা এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই আটজনকে গ্রেফতার এবং চুরি যাওয়া ৯৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী এলাকার আল আমিন (৩০), বাকলিয়া এলাকার আক্কাস আলী (৩৫), কোতোয়ালি এলাকার হৃদয় (৩৪), নরসিংদীর রায়পুরার ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার ইয়াসিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার চান্দিনার রবিউল ইসলাম (৩৩), মুরাদপুর এলাকার আলাউদ্দিন (২৫) এবং লালমাই এলাকার ইসরাফিল রহমান (২৭)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান এসব তথ্য জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। সিডিএমএস যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বগুড়া প্রতিনিধি 








