ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বরগুনায় শুরু ৫ দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘ওই মানুষগুলোকে মরতে দিতে পারি না’: হামলার পরও বিমান বাঁচালেন পাইলট বাল্যবিবাহ ও গোপন বহুবিবাহ ঠেকাতে অনলাইনে আসছে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন ডেঙ্গু প্রতিরোধে মুন্সীগঞ্জে কাটাখালী খালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সপ্তম বাংলাদেশ ৯০ কেজি গাঁজাসহ আটক ১, পালিয়ে গেছে আরও দুইজন তাইজে হুথি-সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াই, ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৮০ হরমুজ প্রণালিতে দুই তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর হামলা, বাড়ছে নৌনিরাপত্তা উদ্বেগ শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মামলা শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার স্বর্ণসহ বিমানকর্মী ও যাত্রী আটক

বাল্যবিবাহ ও গোপন বহুবিবাহ ঠেকাতে অনলাইনে আসছে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহের মতো অনিয়ম প্রতিরোধ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত পাইলট প্রকল্পের আওতায়।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইন নিবন্ধনের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা। এতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে এসব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইন ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, করলে কতটি বিয়ে করেছেন—এসব তথ্য যাচাই করা যাবে। ফলে তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিবাহের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে তথ্য যাচাই করতে পারবে। সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর আগের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হবে।

ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর একাধিক ব্যক্তি স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত বৈবাহিক ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। এতে উত্তরাধিকার ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ এবং মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে বসবাসের ক্ষেত্রেও অনলাইন নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইনে নিবন্ধিত বৈবাহিক তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজনও কমতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারি সেবাগুলোও সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত করা প্রয়োজন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের পরিচয় ও বৈবাহিক তথ্য যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

প্রশিক্ষণে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার পরিচালনা, তথ্য সংরক্ষণ এবং নিবন্ধন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে এ ব্যবস্থার আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লাসহ মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, ব্র্যাক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও অনুষ্ঠানে জানান আইনমন্ত্রী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনায় শুরু ৫ দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব

বাল্যবিবাহ ও গোপন বহুবিবাহ ঠেকাতে অনলাইনে আসছে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন

Update Time : ১১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক এ ব্যবস্থা চালু হলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহের মতো অনিয়ম প্রতিরোধ সহজ হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে (বিএলসি) নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত পাইলট প্রকল্পের আওতায়।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইন নিবন্ধনের অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা। এতে দেশের যেকোনো স্থান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে এসব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, অনলাইন ব্যবস্থায় একজন ব্যক্তি আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, করলে কতটি বিয়ে করেছেন—এসব তথ্য যাচাই করা যাবে। ফলে তথ্য গোপন করে অন্যত্র বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নতুন বিয়ের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিবাহের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকরভাবে তথ্য যাচাই করতে পারবে। সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর আগের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানার সুযোগ তৈরি হবে।

ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর একাধিক ব্যক্তি স্ত্রী বা সন্তান হিসেবে দাবি করলে নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত বৈবাহিক ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। এতে উত্তরাধিকার ও বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ এবং মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে যাওয়া বা বিদেশে বসবাসের ক্ষেত্রেও অনলাইন নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইনে নিবন্ধিত বৈবাহিক তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে প্রচলিত পদ্ধতিতে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের প্রয়োজনও কমতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সরকারি সেবাগুলোও সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত করা প্রয়োজন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নাগরিকের পরিচয় ও বৈবাহিক তথ্য যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে।

প্রশিক্ষণে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সফটওয়্যার পরিচালনা, তথ্য সংরক্ষণ এবং নিবন্ধন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব নিকাহ রেজিস্ট্রারকে এ ব্যবস্থার আওতায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লাসহ মন্ত্রণালয়, নিবন্ধন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, ব্র্যাক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারির ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও অনুষ্ঠানে জানান আইনমন্ত্রী।