ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
১০ এয়ারবাস কিনতে চুক্তিতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ পঞ্চগড়ে রিকশাচালক আল আমিন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি মুক্তা গ্রেপ্তার জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস আজ এশিয়ার বড় বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি, বহুমুখীকরণের নতুন সম্ভাবনা প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দেখতে ১৮০ কর্মকর্তাকে পাঠানোর নির্দেশ ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার শার্শায় গাছের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কা, হেলপার নিহত “ডেঙ্গুতে খাবারই শক্তি: রোগীর খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন, যা এড়িয়ে চলবেন” যশোরের শার্শা-বেনাপোলে পাটখড়ির দামে লাভবান কৃষকেরা আন্তর্জাতিক ফায়ার ম্যারাথন-১০২: আজ থেকে শুরু রেজিস্ট্রেশন

“ডেঙ্গুতে খাবারই শক্তি: রোগীর খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন, যা এড়িয়ে চলবেন”

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সুস্থতায় চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার এবং পূর্ণ বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সময় জ্বর, ঘাম, বমি বা খাবারে অনীহার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই রোগীকে অল্প অল্প করে বারবার তরল ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া প্রয়োজন।

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত উচ্চ জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং কখনো ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। রোগের তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ডেঙ্গুতে কী খাবেন

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খাবারে পর্যাপ্ত তরল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস ও অন্যান্য উপযোগী তরল পানীয় শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে।

জ্বরের সময় একসঙ্গে বেশি খাবার খেতে অসুবিধা হলে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়া যেতে পারে। সহজপাচ্য খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। চিকেন স্যুপ, ডিম, মাছ, দুধজাতীয় খাবার, বাদামসহ সহনীয় ও পুষ্টিকর খাবার রোগীর খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

সবজি ও ফল থেকেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই প্লাটিলেট দ্রুত বেড়ে যায়—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া রোগের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতির অংশ হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও ভারী খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সহজপাচ্য খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবারও এড়িয়ে চলা ভালো।

বিশ্রামও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

ডেঙ্গুর সময় শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সংরক্ষণে সহায়তা করে। তাই জ্বর ও দুর্বলতা থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

জ্বর কমাতে কী করবেন

ডেঙ্গুতে জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়; তবে ওষুধের মাত্রা ও ব্যবহারের সময় রোগীর বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজের ইচ্ছায় অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্যান্য NSAID জাতীয় ব্যথানাশক গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহারের বদলে স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে

ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি বা কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, ঘুম ঘুম ভাব কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর চিকিৎসায় শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ, রক্তপাতের লক্ষণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাই ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ এয়ারবাস কিনতে চুক্তিতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ

“ডেঙ্গুতে খাবারই শক্তি: রোগীর খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন, যা এড়িয়ে চলবেন”

Update Time : ০৫:৩১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সুস্থতায় চিকিৎসার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার এবং পূর্ণ বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর সময় জ্বর, ঘাম, বমি বা খাবারে অনীহার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই রোগীকে অল্প অল্প করে বারবার তরল ও সহজপাচ্য খাবার দেওয়া প্রয়োজন।

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত উচ্চ জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং কখনো ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। রোগের তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ডেঙ্গুতে কী খাবেন

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খাবারে পর্যাপ্ত তরল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস ও অন্যান্য উপযোগী তরল পানীয় শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে।

জ্বরের সময় একসঙ্গে বেশি খাবার খেতে অসুবিধা হলে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়া যেতে পারে। সহজপাচ্য খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। চিকেন স্যুপ, ডিম, মাছ, দুধজাতীয় খাবার, বাদামসহ সহনীয় ও পুষ্টিকর খাবার রোগীর খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

সবজি ও ফল থেকেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার খেলেই প্লাটিলেট দ্রুত বেড়ে যায়—এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া রোগের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতির অংশ হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলা ভালো

ডেঙ্গু আক্রান্ত অবস্থায় অতিরিক্ত তেল, ঝাল ও ভারী খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সহজপাচ্য খাবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও অস্বাস্থ্যকর খাবারও এড়িয়ে চলা ভালো।

বিশ্রামও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

ডেঙ্গুর সময় শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সংরক্ষণে সহায়তা করে। তাই জ্বর ও দুর্বলতা থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

জ্বর কমাতে কী করবেন

ডেঙ্গুতে জ্বর বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়; তবে ওষুধের মাত্রা ও ব্যবহারের সময় রোগীর বয়স, ওজন ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে নিজের ইচ্ছায় অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন বা অন্যান্য NSAID জাতীয় ব্যথানাশক গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ব্যবহারের বদলে স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছে দেওয়া যেতে পারে।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে

ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, রক্তবমি বা কালো পায়খানা, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট, ঘুম ঘুম ভাব কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

ডেঙ্গুর চিকিৎসায় শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা নয়, রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা, পানিশূন্যতা, রক্তচাপ, রক্তপাতের লক্ষণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাই ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।