ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে কাজ শুরু, ১৫ মামলায় জরিমানা ৫৫ হাজার টাকা ছাতকে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক চট্টগ্রামে ১২০ কোটি টাকার অনুদান দিচ্ছে জাইকা, হবে নতুন ল্যান্ডফিল যশোরে পরকীয়া সম্পর্ক ফাঁসের আশঙ্কায় স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা, গ্রেফতার ২ আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য জোরদারে বিজিবি-বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ে সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের অপহরণ, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার ভুয়া টিএ বিল, ‘ভগবান ডিউটি’ ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে আলোচনায় আরএনবি ইন্সপেক্টর সালামত চট্টগ্রামে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জুয়েলসহ গ্রেপ্তার ৩ জৈব সার ব্যবহারে ভর্তুকি দেওয়ার দাবি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান হত্যা ও মানবপাচার মামলার আসামি মুকিম ঢাকায় গ্রেপ্তার

মাদ্রাসার গাছ কাটার অভিযোগে সুপারের বিরুদ্ধে ১২ দপ্তরে স্থানীয়দের স্মারকলিপি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট শাহ মো. নুরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, বন বিভাগসহ ১২টি সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মাদ্রাসার মাঠে থাকা একটি বড় কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলেন মাদ্রাসার সুপার। পরে গাছটি স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার কাছে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য আলোচনা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা গাছটি বিক্রি করে নিয়ে যেতে বাধা দেন। বর্তমানে কাটা গাছটি মাদ্রাসার মাঠেই পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সরকারি ছুটির দিনে গাছ কাটার পর সেটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসার সুপার ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী, নুর ইসলাম, আনিছুর, রাজু আহমেদ, আশরাফুল আলম, রুহুল আমিন, মহুবর রহমান, বাবু বসুনিয়া ও মোখলেছ বসুনিয়াসহ কয়েকজন জানান, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার দিনে কাঁঠাল গাছটি কেটে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা গাছটি আটকে দেন। তাদের দাবি, আগেও মাদ্রাসার কয়েকটি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রায় ৫০ জনের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, মাদ্রাসার সুপার তার কাছে কাঁঠাল গাছটি ১৩ হাজার টাকায় বিক্রির কথা বলেছিলেন। ওই অর্থের বিনিময়ে ইউক্যালিপটাস কাঠ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তবে মাদ্রাসার সুপার শাহ মো. নুরে আলম সিদ্দিকী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি মাহাবুর রহমানের অনুমতি নিয়েই গাছটি কাটা হয়েছিল। তবে গাছ কাটার বিষয়টি তার ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির জন্য স্থানীয়দের পরামর্শে গাছটি কাটা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং গাছটি ভবন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এ কারণেও গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মাদ্রাসার সুপারকে গাছ কাটার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সব তথ্য নেই। তিনি জেলা প্রশাসনের এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আসাদুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গাছ কাটার প্রকৃত কারণ, বিক্রির উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে কাজ শুরু, ১৫ মামলায় জরিমানা ৫৫ হাজার টাকা

মাদ্রাসার গাছ কাটার অভিযোগে সুপারের বিরুদ্ধে ১২ দপ্তরে স্থানীয়দের স্মারকলিপি

Update Time : ০২:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বসুনিয়ারহাট আহম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসার গাছ কেটে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির সুপারিনটেনডেন্ট শাহ মো. নুরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, বন বিভাগসহ ১২টি সরকারি দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার মাদ্রাসার মাঠে থাকা একটি বড় কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলেন মাদ্রাসার সুপার। পরে গাছটি স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার কাছে ১৩ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য আলোচনা করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা গাছটি বিক্রি করে নিয়ে যেতে বাধা দেন। বর্তমানে কাটা গাছটি মাদ্রাসার মাঠেই পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সরকারি ছুটির দিনে গাছ কাটার পর সেটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসার সুপার ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এর আগেও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে চারটি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী, নুর ইসলাম, আনিছুর, রাজু আহমেদ, আশরাফুল আলম, রুহুল আমিন, মহুবর রহমান, বাবু বসুনিয়া ও মোখলেছ বসুনিয়াসহ কয়েকজন জানান, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার দিনে কাঁঠাল গাছটি কেটে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা গাছটি আটকে দেন। তাদের দাবি, আগেও মাদ্রাসার কয়েকটি গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রায় ৫০ জনের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, মাদ্রাসার সুপার তার কাছে কাঁঠাল গাছটি ১৩ হাজার টাকায় বিক্রির কথা বলেছিলেন। ওই অর্থের বিনিময়ে ইউক্যালিপটাস কাঠ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তবে মাদ্রাসার সুপার শাহ মো. নুরে আলম সিদ্দিকী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি মাহাবুর রহমানের অনুমতি নিয়েই গাছটি কাটা হয়েছিল। তবে গাছ কাটার বিষয়টি তার ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান বলেন, মাদ্রাসার ফার্নিচার তৈরির জন্য স্থানীয়দের পরামর্শে গাছটি কাটা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং গাছটি ভবন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে—এ কারণেও গাছটি কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মাদ্রাসার সুপারকে গাছ কাটার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তার ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে সব তথ্য নেই। তিনি জেলা প্রশাসনের এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি)-এর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) আসাদুজ্জামানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে গাছ কাটার প্রকৃত কারণ, বিক্রির উদ্যোগ এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।