স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসক সংকট নিরসনে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাজশাহী নগরীর একটি হোটেলে সম্প্রসারিত টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৪০ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে প্যাথলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিদ্যমান যন্ত্রপাতি সচল করা গেলে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়বে। এতে রোগীদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সহজ হবে।
হাম প্রতিরোধে চলমান টিকাদান ও ক্যাচ-আপ কর্মসূচির আওতায় দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশা ও লার্ভা নিধন এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে দুই হাজার চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ড. এম এ মুহিত বলেন, রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি কার্যকর। এ কারণে টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী প্রতিনিধি 



















