সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী মালিক সমিতি। একই সঙ্গে অপপ্রচার বন্ধ না হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর সংলগ্ন ২ নম্বর গেটের সামনে অবস্থিত সমিতির নিজস্ব ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সমিতির নেতারা বলেন, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে বেনাপোল বন্দর-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি আবু তাহের ভারত নিজের ও ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সমিতি ও এর নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি সভায় সমিতির সভাপতিকে প্রকাশ্যে ‘চাঁদাবাজ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ট্রাকপ্রতি ৫০ টাকা আদায়ের ব্যাখ্যা
সমিতির পক্ষ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়ে বলা হয়, বন্দর এলাকার ট্রাক ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০৪ সাল থেকে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের বেতন বাবদ রশিদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সমিতির দাবি, গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে গঠনতন্ত্রের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী সদস্যদের মরণোত্তর ভাতা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার জন্য প্রতি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা করে কল্যাণ তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বেনাপোল পৌরসভার ইজারার আওতায় ট্রাকপ্রতি ১০০ টাকা এবং রাতযাপনের জন্য ৫০ টাকা আদায় করা হয় বলে জানানো হয়। সমিতির বক্তব্য অনুযায়ী, এ ইজারার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বিএনপির অঙ্গসংগঠন, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী মালিক সমিতি যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো খাতে তারা চাঁদা বা অর্থ আদায় করে না।
অপপ্রচার বন্ধ না হলে কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অপপ্রচার ও বন্দর এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে সংগঠনের বিধি অনুযায়ী সদস্যরা বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
এতে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসায়িক, সামাজিক বা রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার দায় আবু তাহের ভারতকে বহন করতে হবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শার্শা উপজেলার খবর ও বেনাপোলের বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাসঙ্গিক খবর: বেনাপোলের সর্বশেষ সংবাদ | স্থলবন্দরবিষয়ক সংবাদ | শার্শার সর্বশেষ খবর
মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি 



















