ঢাকা ১২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকি: ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত সৌদি আরবে হামলায় আহত প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে সরকার: মন্ত্রী বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়নে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও জনমত যাচাই সভা চকবাজারের মঞ্জুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে, টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টা অভিযান নাগেশ্বরীতে আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ দুর্গাপূজায় টানা ৮ দিন বন্ধ বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব খাগড়াছড়ির কৃষি ও হস্তশিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ইপিবির মতবিনিময় সভা সোমবার ইসি সভায় চূড়ান্ত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি

টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর

বিশ্বজুড়ে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকার আওতা বাড়াতে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা। টিকাদানের হার বাড়াতে সহায়ক হলে দেশগুলো এ উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জেনেভা থেকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠী (সেজ) এ সুপারিশ তুলে ধরে।

সেজের চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট জানান, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে ইতোমধ্যে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী এই টিকা গ্রহণের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ, যা ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ এই বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একইভাবে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের জন্যও এক বা দুই ডোজের সূচি প্রযোজ্য করা হয়। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যান্থনি স্কট বলেন, টিকা গ্রহণের হার ও আওতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।

এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে নারীদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার ছিল পঞ্চম সর্বাধিক। ওই বছর প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান।

ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।

টিকাদানের পরিধি বাড়াতে সেজ আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী টিকা নিতে পারেননি, তাঁদের টিকা দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের এ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ রয়েছে। পাশাপাশি ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথাও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভি প্রতিরোধে আট ধরনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচপিভি টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং নির্ধারিত বয়সে টিকা নিশ্চিত করা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর

টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর

Update Time : ০৫:৪৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) প্রতিরোধী টিকার আওতা বাড়াতে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা। টিকাদানের হার বাড়াতে সহায়ক হলে দেশগুলো এ উদ্যোগ নিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

জেনেভা থেকে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠী (সেজ) এ সুপারিশ তুলে ধরে।

সেজের চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট জানান, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে ইতোমধ্যে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী এই টিকা গ্রহণের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ, যা ডব্লিউএইচওর নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।

ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ এই বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একইভাবে ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের জন্যও এক বা দুই ডোজের সূচি প্রযোজ্য করা হয়। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অ্যান্থনি স্কট বলেন, টিকা গ্রহণের হার ও আওতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।

এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে নারীদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার ছিল পঞ্চম সর্বাধিক। ওই বছর প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নারী এ রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান।

ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।

টিকাদানের পরিধি বাড়াতে সেজ আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। প্রথম পর্যায়ে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী টিকা নিতে পারেননি, তাঁদের টিকা দেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের এ সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ রয়েছে। পাশাপাশি ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথাও সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভি প্রতিরোধে আট ধরনের টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচপিভি টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং নির্ধারিত বয়সে টিকা নিশ্চিত করা জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।