ঢাকা ০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২০ ইউনিট এলএনজি কেনাকাটায় পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ সিদ্ধিরগঞ্জে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, ৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবমে লিখিত পরীক্ষা শার্শা ও বেনাপোলে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন: ৩২ মণ্ডপে বইছে আনন্দের জোয়ার টিকার আওতা বাড়াতে ৪–৮ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকা দেওয়ার পরামর্শ ডব্লিউএইচওর সৌদি আরবে নিরাপত্তা ঝুঁকি: ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত সৌদি আরবে হামলায় আহত প্রবাসীদের নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে সরকার: মন্ত্রী বেনাপোল স্থলবন্দরের উন্নয়নে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ ও জনমত যাচাই সভা চকবাজারের মঞ্জুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে, টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টা অভিযান
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে ভর্তি

প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবমে লিখিত পরীক্ষা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুসারে, দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন গ্রহণ, ফি পরিশোধ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ৫ থেকে ৭ বছর

নীতিমালায় প্রতি শ্রেণি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া যাবে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে রাখতে পারবে। তবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিফট পছন্দ করলে তা দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির আয়োজন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে কেবল শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় মোট নম্বর ১০০। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা। প্রশ্ন তৈরি করা হবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই অনুসারে।

আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা

নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি নেওয়া যাবে ২৫০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

ঢাকার ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন

ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬০ শতাংশ আসনে অন্যান্য আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার বিধান রয়েছে।

নীতিমালায় আরও কয়েকটি সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাঁদের সন্তানদের ভর্তির সুবিধার্থে প্রতি শাখায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন রাখার বিধানও রয়েছে।

ভর্তি কার্যক্রম তদারকিতে পৃথক কমিটি

ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি ভর্তি কার্যক্রম তদারকি করবে।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আবেদন শুরুর তারিখ, পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের ২০ ইউনিট

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে ভর্তি

প্রথম শ্রেণিতে লটারি, দ্বিতীয় থেকে নবমে লিখিত পরীক্ষা

Update Time : ১১:২৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা-২০২৭’ প্রকাশ করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুসারে, দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন গ্রহণ, ফি পরিশোধ, ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ ও প্রকাশের কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির বয়স ৫ থেকে ৭ বছর

নীতিমালায় প্রতি শ্রেণি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীর বয়স সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর হতে হবে। বয়স প্রমাণের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া যাবে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রমে রাখতে পারবে। তবে একই বিদ্যালয়ের দুই শিফট পছন্দ করলে তা দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির আয়োজন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষা

নীতিমালা অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে কেবল শূন্য আসনের বিপরীতে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুসারে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা।

অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় মোট নম্বর ১০০। বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা। প্রশ্ন তৈরি করা হবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) পাঠ্যবই অনুসারে।

আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা

নীতিমালায় প্রথম শ্রেণিতে আবেদনের ফি সর্বোচ্চ ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি নেওয়া যাবে ২৫০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

ঢাকার ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন

ঢাকা মহানগরীর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর আওতাধীন ক্যাচমেন্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। বাকি ৬০ শতাংশ আসনে অন্যান্য আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট আসনের ১০ শতাংশ স্বতন্ত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার বিধান রয়েছে।

নীতিমালায় আরও কয়েকটি সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ, সহোদর বা সহোদরার জন্য ৩ শতাংশ এবং যমজ ভাই-বোনের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিজনিত কারণে তাঁদের সন্তানদের ভর্তির সুবিধার্থে প্রতি শাখায় অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আসন রাখার বিধানও রয়েছে।

ভর্তি কার্যক্রম তদারকিতে পৃথক কমিটি

ভর্তি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনার জন্য ঢাকা মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক ভর্তি কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি ভর্তি কার্যক্রম তদারকি করবে।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আবেদন শুরুর তারিখ, পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে।