ঢাকা ০৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ২৫ কোটি টাকার অবৈধ জাল মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন স্লো ওভার রেটের দায়ে বাংলাদেশের ৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানো, আড়তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা; ৮ ডিসেম্বর আপিল শুনানি ঢাকা বোর্ডে এসএসসি বৃত্তির তালিকা প্রকাশ, মেধাবীরা পাবেন মাসে ৬০০ টাকা কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সব উপজেলায় কমিটি, সভাপতি ইউএনও কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার মামলায় পল ম্যাকেঞ্জির রায় প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে যশোরে চিকিৎসকদের অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন, ভোগান্তিতে রোগীরা ও বাড়ছে ভুল ওষুধের ঝুঁকি

বাংলাদেশ পুলিশে ২৪ হাজার ৬৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ, অনুমোদনের অপেক্ষায় একাধিক প্রস্তাব

জনবল সংকট কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশে রাজস্ব খাতের আওতায় নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এসব পদের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৪০০ সার্জেন্ট ও ৪৫০ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। তবে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এখনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি সংসদীয় নথিতে উদ্ধৃত বিভিন্ন দেশের পুলিশ জনবলের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। বর্তমান অনুমোদিত জনবল এবং আঞ্চলিক তুলনামূলক মানদণ্ডে প্রয়োজনীয় জনবলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট অনুমোদিত জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি। এর মধ্যে পুলিশের নিজস্ব পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি এবং পুলিশবহির্ভূত পদ ১০ হাজার ৮০৯টি।

অন্যদিকে, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় জনবলের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন। সে হিসাবে পুলিশের জনবলে ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শান্তিকালীন পুলিশ-জনসংখ্যার ১:৪০ অনুপাতের মানদণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তুলনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পুলিশি জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, ১৭ কোটির বেশি মানুষের দেশে বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে জননিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা কঠিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তাবিত নিয়োগ ইতিবাচক পদক্ষেপ।

কোন পদে কত নিয়োগের প্রস্তাব

প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল ও ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ৪০০টি সার্জেন্ট এবং ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্পের জন্য ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পদ সংশ্লিষ্ট ইউনিটের জনবলের চাহিদা পূরণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও কিছু পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুলিশের অনুমোদিত জনবল বাড়বে। তবে প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ অনুমোদিত হলেও বিদ্যমান ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জনের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না।

প্রস্তাবিত সব পদ অনুমোদিত হয়ে বর্তমান অনুমোদিত জনবলের সঙ্গে যুক্ত হলে মোট অনুমোদিত পদ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৬টি। প্রয়োজনীয় জনবলের সঙ্গে তুলনা করলে তখনও ঘাটতি থাকবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৭ জন।

তবে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবকে এখনই চূড়ান্ত নিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ এবং পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলা, মাঠপর্যায়ে পুলিশি সেবা সম্প্রসারণ এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদ সৃষ্টির এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবর

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ২৫ কোটি টাকার অবৈধ জাল

বাংলাদেশ পুলিশে ২৪ হাজার ৬৭৭টি নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ, অনুমোদনের অপেক্ষায় একাধিক প্রস্তাব

Update Time : ০৭:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

জনবল সংকট কাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশে রাজস্ব খাতের আওতায় নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত এসব পদের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৪০০ সার্জেন্ট ও ৪৫০ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। তবে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব এখনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি সংসদীয় নথিতে উদ্ধৃত বিভিন্ন দেশের পুলিশ জনবলের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। বর্তমান অনুমোদিত জনবল এবং আঞ্চলিক তুলনামূলক মানদণ্ডে প্রয়োজনীয় জনবলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট অনুমোদিত জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি। এর মধ্যে পুলিশের নিজস্ব পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি এবং পুলিশবহির্ভূত পদ ১০ হাজার ৮০৯টি।

অন্যদিকে, প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় জনবলের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন। সে হিসাবে পুলিশের জনবলে ঘাটতি রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শান্তিকালীন পুলিশ-জনসংখ্যার ১:৪০ অনুপাতের মানদণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তুলনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পুলিশি জনবল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, ১৭ কোটির বেশি মানুষের দেশে বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে জননিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা কঠিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তাবিত নিয়োগ ইতিবাচক পদক্ষেপ।

কোন পদে কত নিয়োগের প্রস্তাব

প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল ও ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রস্তাব সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ছাড়া ৪০০টি সার্জেন্ট এবং ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের পুলিশি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্পের জন্য ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পদ সংশ্লিষ্ট ইউনিটের জনবলের চাহিদা পূরণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রয়োজন বিবেচনায় আরও কিছু পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুলিশের অনুমোদিত জনবল বাড়বে। তবে প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ অনুমোদিত হলেও বিদ্যমান ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জনের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না।

প্রস্তাবিত সব পদ অনুমোদিত হয়ে বর্তমান অনুমোদিত জনবলের সঙ্গে যুক্ত হলে মোট অনুমোদিত পদ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৬টি। প্রয়োজনীয় জনবলের সঙ্গে তুলনা করলে তখনও ঘাটতি থাকবে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৭ জন।

তবে নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবকে এখনই চূড়ান্ত নিয়োগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণ এবং পরবর্তী নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।

দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলা, মাঠপর্যায়ে পুলিশি সেবা সম্প্রসারণ এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পদ সৃষ্টির এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ খবর