শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। পূজা চলাকালীন দেশের চালু ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন স্ট্যান্ডবাই দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, অগ্নিঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। রাজধানীর কাজী আলাউদ্দীন রোডে অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মহাপরিচালক জানান, দেশের প্রতিটি ফায়ার স্টেশন নিজ নিজ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সম্ভাব্য অগ্নিঝুঁকি শনাক্ত করবেন এবং ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা পেতে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনের ফোন নম্বর ও ১০২ হটলাইন নম্বর প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অস্থায়ী ফায়ার স্টেশনগুলোও পূজার সময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি বিভাগীয়, জেলা ও জোন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও স্ট্যান্ডবাই দায়িত্বে থাকবেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা প্রস্তুত থাকবেন।
২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষসহ বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা হবে। কোনো স্থান থেকে জরুরি সহায়তার অনুরোধ এলে পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী এক বা একাধিক ফায়ার স্টেশনকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশনগুলো স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। পূজামণ্ডপের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিশেষ প্রস্তুতি রাখছে ফায়ার সার্ভিস। বিসর্জনস্থলে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল, স্বেচ্ছাসেবক, রোড রেসকিউ সরঞ্জাম ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে। রাতের বেলায় প্রয়োজনীয় স্থানে আলোকসজ্জা বা লাইটিং ইউনিটও রাখা হবে।
এ ছাড়া অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ফায়ার স্টেশনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
মহাপরিচালক বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পূজামণ্ডপে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।
আরও পড়ুন: জাতীয় ও জননিরাপত্তাবিষয়ক সর্বশেষ সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক | তথ্য প্রকাশ 

















