যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ঘিরে বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতার মধ্যে বিকল্প বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার (ইএফটিএ) চার সদস্যদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে ভিয়েতনাম। চুক্তির মাধ্যমে শিল্পপণ্য, মাছ ও কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্যে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হবে।
রোববার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা তো লামের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন। ইএফটিএর চার সদস্যদেশ হলো আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখী করতে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিয়েতনাম সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার মধ্যেও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই চুক্তি। এর ফলে ভিয়েতনাম আমদানি-রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ ও উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হতে পারবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির মধ্যে বিকল্প বাজারের সন্ধান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শুল্ক আরোপের উদ্যোগ বিশ্ববাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভিয়েতনামের রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্কের চাপ তৈরি হওয়ায় দেশটি বিকল্প বাণিজ্যিক অংশীদার খুঁজছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হ্যানয়ের আলোচনা এখনও চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইএফটিএর সঙ্গে চুক্তিটি ভিয়েতনামের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখী করার এবং বড় বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ।
ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক গবেষক দো দিন লাম খাং এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক চাপের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি অর্থনৈতিক একীভবনকে কৌশলগত স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নেওয়ার যৌথ প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে বিকল্প সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, ইএফটিএভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভিয়েতনামের উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রমের বিকাশে সহায়তা করতে পারে। এতে সাধারণ পণ্যের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ও অধিক মূল্যসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের সুযোগ বাড়বে।
চুক্তিতে যেসব বিষয় রয়েছে
চুক্তিতে পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, মেধাস্বত্বের অধিকার, বাণিজ্য প্রতিকার এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে আলোচনা আবার শুরু হয় এবং গত জুলাইয়ে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিয়েতনাম ও ইএফটিএর বাণিজ্যিক সম্পর্ক
ইএফটিএর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভিয়েতনামের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৮০ কোটি ইউরো, যা প্রায় ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
ইএফটিএভুক্ত দেশগুলো থেকে ভিয়েতনামে প্রধানত বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক যন্ত্রপাতি, মাছ এবং ওষুধজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম থেকে এসব দেশে যন্ত্রপাতি, জুতা ও তৈরি পোশাক রপ্তানি করা হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকলেও আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। নতুন চুক্তির ফলে ভিয়েতনাম ও এই চার দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি ও ইএফটিএর তথ্য।
আরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিশ্বরাজনীতির খবর পড়ুন তথ্য প্রকাশ ওয়েবসাইটে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | তথ্য প্রকাশ 





















