ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ২৫ কোটি টাকার অবৈধ জাল মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন স্লো ওভার রেটের দায়ে বাংলাদেশের ৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানো, আড়তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা; ৮ ডিসেম্বর আপিল শুনানি ঢাকা বোর্ডে এসএসসি বৃত্তির তালিকা প্রকাশ, মেধাবীরা পাবেন মাসে ৬০০ টাকা কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সব উপজেলায় কমিটি, সভাপতি ইউএনও কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার মামলায় পল ম্যাকেঞ্জির রায় প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে যশোরে চিকিৎসকদের অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন, ভোগান্তিতে রোগীরা ও বাড়ছে ভুল ওষুধের ঝুঁকি

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ঢাকা-৬ আসনের মানুষের সমস্যা সমাধানে বেশি সময় দেওয়ার কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের কারণে সরকার বা দল যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন।

ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি আরও বেশি সময় দিতে চান। তাঁর মতে, মাদকবিরোধী অভিযান কেবল শুরু হয়েছে, এটি অব্যাহত রাখতে হবে।

ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের কার্যক্রম বেড়ে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।

গত ১৭ অক্টোবরের অভিযানের বিবরণ দিয়ে ইশরাক বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ওই এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইন, মদ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র এবং ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।

অস্ত্র হাতে থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা

অভিযানের সময় পিস্তল হাতে থাকার বিষয়ে ইশরাক বলেন, তাঁর নামে একটি পিস্তল ও একটি রাইফেলের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। ওই এলাকায় আগে ছাদ থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন।

অভিযানের সময় তাঁর কর্মকাণ্ডে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে বা কারও মনে কষ্ট হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি।

ইশরাকের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে অস্ত্র হাতে থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে গেছে।

মাদকের মূল সরবরাহকারীদের শনাক্তের আহ্বান

ইশরাক হোসেন বলেন, শুধু খুচরা মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মাদকের আস্তানা ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাদকাসক্তি নিয়ে তাঁর কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মাদক সহজলভ্য থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে শনিবার ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর রেলক্রসিং এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলোর একটিতে তাঁকে পিস্তল হাতে দেখা যায়। পরে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনার পর সোমবার সকালে ফেসবুক পোস্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, মাদক প্রতিরোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও খবর পড়ুন: তথ্যপ্রকাশের মূল ওয়েবসাইট।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ২৫ কোটি টাকার অবৈধ জাল

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন

Update Time : ০৮:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা এবং ঢাকা-৬ আসনের মানুষের সমস্যা সমাধানে বেশি সময় দেওয়ার কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমের কারণে সরকার বা দল যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন।

ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি আরও বেশি সময় দিতে চান। তাঁর মতে, মাদকবিরোধী অভিযান কেবল শুরু হয়েছে, এটি অব্যাহত রাখতে হবে।

ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকায় মাদক বিক্রি ও সরবরাহের কার্যক্রম বেড়ে যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন। আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৬ আসনের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান তিনি।

গত ১৭ অক্টোবরের অভিযানের বিবরণ দিয়ে ইশরাক বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে ওই এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম হেরোইন, মদ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র এবং ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনের একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।

অস্ত্র হাতে থাকার বিষয়ে ব্যাখ্যা

অভিযানের সময় পিস্তল হাতে থাকার বিষয়ে ইশরাক বলেন, তাঁর নামে একটি পিস্তল ও একটি রাইফেলের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। ওই এলাকায় আগে ছাদ থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে অস্ত্রটি হাতে রেখেছিলেন।

অভিযানের সময় তাঁর কর্মকাণ্ডে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে বা কারও মনে কষ্ট হয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, সেদিন তিনি কোনো ভুল করেননি।

ইশরাকের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে অস্ত্র হাতে থাকার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের মূল উদ্দেশ্য আড়ালে পড়ে গেছে।

মাদকের মূল সরবরাহকারীদের শনাক্তের আহ্বান

ইশরাক হোসেন বলেন, শুধু খুচরা মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের মূল সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

মাদকের আস্তানা ও সরবরাহকারীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মাদকের কারণে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের মাদকাসক্তি নিয়ে তাঁর কাছে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। মাদক সহজলভ্য থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে শনিবার ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর রেলক্রসিং এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলোর একটিতে তাঁকে পিস্তল হাতে দেখা যায়। পরে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনার পর সোমবার সকালে ফেসবুক পোস্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, মাদক প্রতিরোধ ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও খবর পড়ুন: তথ্যপ্রকাশের মূল ওয়েবসাইট।