ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংবাদ প্রকাশের আহ্বান মন্ত্রণালয়ের ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলার দাবি, সানা ও মোচায় হতাহতের খবর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা, ফিরলেন তপু ইতালিতে বিক্ষোভে কঠোর নিরাপত্তা, রোম-মিলানে হাজারো মানুষের সমাবেশ শেষ ম্যাচে হেরে আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ ড্র বাংলাদেশের যুবারা ইইউতে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, আগস্টে আয় বেড়েছে ১২.৭১% ১১ বছর পর মাঠে ফিরছেন রোনালদিনহো, ১৫ নভেম্বর রাভেন্নার হয়ে অভিষেক কুমিল্লায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, আটক ২৭৫ ৮ দিন বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক: মেয়র শাহাদাত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। নারী শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

 

তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর, অহিংস মতবাদের ধারক এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক ও বিশিষ্ট মনীষী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

 

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, অবিভক্ত বাংলা ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি কেবল একজন আলেম বা রাজনীতিবিদ ছিলেন না; বরং প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও সমাজসেবক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই অঞ্চলের অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়কে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর অবদান ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

 

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সমাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, ইতিহাস, আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোপযোগী শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। তিনি ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। একটি শিক্ষিত, জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি গঠনে তাঁর ত্যাগ ও অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

 

তিনি বলেন, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর মৌলিক চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যাঙ্গনকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। জাতিসত্তা বিনির্মাণে তাঁর অবদান ইতিহাসের সোনালি পাতায় চিরকাল অম্লান থাকবে।

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং এস এম সালাউদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির এবং চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

 

সভায় বক্তব্য দেন কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মোর্শেদ হোসেন, সহসভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ ও মুজিবুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. পারভেজ ইকবাল শরীফ, সহসাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক প্রকৌশলী জাবেদ আবছার চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক ড. মো. সানা উল্লাহ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলী নূর, প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদক ওয়াকিল আহমদ সিকদার, সাধারণ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আকতার, আলহাজ এমদাদুল আজিজ চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী ও হুমায়ুন খান।

 

এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ. এম. এস. ইসলামাবাদী (গাজী), মোতোয়াল্লি সদস্য আজাদ উল্লাহ খান, দাতা সদস্য নুরুল আলম, সাধারণ সদস্য ও প্রধান শিক্ষক মো. আবু জহুর এবং কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বদিউল আলম রিজভীসহ অন্যরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক: মেয়র শাহাদাত

Update Time : ০৪:৪০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন শিক্ষা, মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। নারী শিক্ষা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ সংস্কারে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।

 

তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাঙালি গড়ার কারিগর, অহিংস মতবাদের ধারক এবং মুক্তবুদ্ধি চর্চার অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর জীবন ও আদর্শ আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামে মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্রপথিক ও বিশিষ্ট মনীষী মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ৭৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা এ স্মরণসভার আয়োজন করে।

 

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, অবিভক্ত বাংলা ও ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারে মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি কেবল একজন আলেম বা রাজনীতিবিদ ছিলেন না; বরং প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও সমাজসেবক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই অঞ্চলের অনগ্রসর মুসলিম সম্প্রদায়কে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি আজীবন কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা ও স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর অবদান ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

 

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সমাজনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, ইতিহাস, আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানে যুগোপযোগী শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। তিনি ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলন ও খিলাফত আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। একটি শিক্ষিত, জ্ঞাননির্ভর ও উদারপন্থী জাতি গঠনে তাঁর ত্যাগ ও অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

 

তিনি বলেন, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর মৌলিক চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যাঙ্গনকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। জাতিসত্তা বিনির্মাণে তাঁর অবদান ইতিহাসের সোনালি পাতায় চিরকাল অম্লান থাকবে।

কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং এস এম সালাউদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান ও আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু, শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. শামসুদ্দিন শিশির এবং চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

 

সভায় বক্তব্য দেন কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার সিনিয়র সহসভাপতি এস এম মোর্শেদ হোসেন, সহসভাপতি হাফেজ আমান উল্লাহ ও মুজিবুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. পারভেজ ইকবাল শরীফ, সহসাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, অর্থ সম্পাদক প্রকৌশলী জাবেদ আবছার চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক ড. মো. সানা উল্লাহ, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলী নূর, প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদক ওয়াকিল আহমদ সিকদার, সাধারণ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আকতার, আলহাজ এমদাদুল আজিজ চৌধুরী, শাহ আলম চৌধুরী ও হুমায়ুন খান।

 

এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ. এম. এস. ইসলামাবাদী (গাজী), মোতোয়াল্লি সদস্য আজাদ উল্লাহ খান, দাতা সদস্য নুরুল আলম, সাধারণ সদস্য ও প্রধান শিক্ষক মো. আবু জহুর এবং কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বদিউল আলম রিজভীসহ অন্যরা।