খুলনার ডুমুরিয়ায় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় তিন মণ মাংসসহ আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামে এক বিক্রেতাকে আটক করেছে র্যাব-৬। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ সময় একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর পোড়াবাড়ি এলাকার সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, অভিযান চলাকালে পলাশের সহযোগীরা পালিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অন্তত ১৬টি ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
র্যাব-৬-এর অধীন সিপিসি-১ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার (ভারপ্রাপ্ত) জায়েন উদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ বাসসকে বলেন, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে গরু বা খাসির মাংস হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ও হোটেলে বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনে পলাশ মাহমুদকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির বলেন, জব্দ করা ঘোড়াগুলোর মাংস অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা হয়েছিল। এ ধরনের মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
অভিযানে জব্দ করা প্রায় তিন মণ ঘোড়ার মাংস পরে মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়। উদ্ধার করা জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনছুর আলী শেখের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি পশু জবাই, মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যনিরাপত্তা তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাংসের উৎস, জবাইয়ের পরিবেশ এবং বিক্রির প্রক্রিয়া যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
আইনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য ও স্থানীয় অপরাধবিষয়ক আরও খবর পড়তে ভিজিট করুন তথ্যপ্রকাশ ডটকম।
খুলনা প্রতিনিধি 























