জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সপ্তাহের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানী রোম, মিলানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের কর্মসূচিগুলো তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে রোম, তুরিন ও বোলোনিয়ার কয়েকটি বিক্ষোভে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আগের সপ্তাহান্তের মতো দোকানপাটে লুটপাট বা সম্পত্তি ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়নি।
মিলানে ৫০০ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন
গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মিলানে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর শহরটির নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত ৫০০ সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
শনিবার মিলানের কেন্দ্রীয় এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। নজরদারিতে ব্যবহার করা হয় হেলিকপ্টার। পাশাপাশি সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিলানে প্রায় তিন হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। রোমেও প্রায় একই সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেন।
আগাম তল্লাশি, আটক এক ব্যক্তি
গত সপ্তাহের সহিংসতার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার মিলান, মনজা ও আশপাশের ২০টির বেশি শহরে পুলিশ তল্লাশি চালায়। ইতালির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থানে দেড় শতাধিক তল্লাশি পরিচালিত হয়।
এদিকে ‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সন্দেহে মিলানে ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। ওই সংগঠনই শনিবার ইতালির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।
কেন রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা?
ইতালিতে চলমান আন্দোলনের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া ও জ্বালানির উচ্চমূল্য, কম মজুরি এবং সরকারের বাজেট ও সামরিক ব্যয়নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ। শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কর্মীরা এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
রোমে যুদ্ধবিরোধী কর্মসূচিতেও মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সামরিক ব্যয় কমিয়ে শিক্ষা, আবাসন ও জনসেবামূলক খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
নতুন নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ঘিরে বিতর্ক
সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার চলতি সপ্তাহে নতুন নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটকসংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এবং বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিক্ষোভে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কারণে সম্পত্তির ক্ষতি হলে অভিভাবকদের জরিমানার ব্যবস্থাও রয়েছে।
সরকারের মতে, জননিরাপত্তা রক্ষা ও সহিংসতা প্রতিরোধে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ মনে করছে, নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক সমস্যার সমাধানেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
অব্যাহত রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতকে সহায়তা দিতে সরকার কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। দক্ষিণ ইতালিতে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ট্রাকচালকদের অবরোধও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারের নীতিকে ঘিরে অসন্তোষ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আগামী দিনগুলোতে ইতালির বিভিন্ন শহরে নতুন কর্মসূচি ও সমাবেশের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতালি ও ইউরোপের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খবর জানতে ভিজিট করুন তথ্যপ্রকাশ ডটকম।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


















