অস্ট্রেলিয়ার সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে চালু হয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ওয়েস্টার্ন সিডনি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। চার দশকেরও বেশি সময়ের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শেষে সোমবার বিমানবন্দরটিতে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। নতুন এই বিমানবন্দর চালুর মধ্য দিয়ে সিডনির বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় যুক্ত হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে এয়ার নিউজিল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজ নতুন বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে সেটি সেখান থেকে আবার উড্ডয়ন করে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনের আরও খবর পড়ুন তথ্যপ্রকাশের আন্তর্জাতিক বিভাগে।
পশ্চিম সিডনির ২৫ লাখ মানুষের জন্য নতুন যোগাযোগের সুযোগ
এয়ার নিউজিল্যান্ডের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেট বয়ার বলেন, নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধনের অংশ হতে পারা প্রতিদিনের ঘটনা নয়। তাঁর মতে, পশ্চিম সিডনির ২৫ লাখেরও বেশি বাসিন্দার জন্য বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক যাতায়াতের নতুন সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যে পৌঁছানোর আরেকটি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে এটি।
একটি রানওয়ে নিয়ে নির্মিত বিমানবন্দরটি পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম বড় বিমান চলাচলকেন্দ্র। রোববার এখানে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। এর আগে জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল পণ্য পরিবহন কার্যক্রম।
২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে বিমানবন্দর
সিডনির প্রধান বিমানবন্দর কিংসফোর্ড স্মিথ শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে বোটানি বে এলাকায় অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ততম এই বিমানবন্দরের তিনটি রানওয়ে ব্যবহার করে গত বছর চার কোটির বেশি যাত্রী যাতায়াত করেছেন।
পুরোনো বিমানবন্দরটির অবস্থানের কারণে উড়োজাহাজের শব্দ শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় পৌঁছে যায়। এ ছাড়া সেখানে রাতে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচলে সময়সীমা রয়েছে।
অন্যদিকে, পশ্চিম সিডনির নতুন বিমানবন্দরটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এতে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণে বাড়তি নমনীয়তা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরটির প্রধান নির্বাহী সাইমন হিকি বলেন, সার্বক্ষণিক কার্যক্রমের সুবিধা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিমান চলাচলকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে আরও বেশি নমনীয়তা দেবে। পাশাপাশি যাত্রীরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ পাবেন।
নতুন রুটে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার উড়োজাহাজ সংস্থা কোয়ান্টাসের স্বল্পমূল্যের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেটস্টার নতুন বিমানবন্দরের প্রধান অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটি গোল্ড কোস্ট, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থা এখানে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে। ভিয়েতনামের ভিয়েতজেট এয়ার ২০২৭ সালের জানুয়ারি, ফিজি এয়ারওয়েজ মার্চ এবং কাতার এয়ারওয়েজ একই বছরের ডিসেম্বরে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে।
নির্মাণে ব্যয় ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার
আশপাশের পরিবহন অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয় বাদে নতুন বিমানবন্দরটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বিমানবন্দরটিকে দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি পশ্চিম সিডনিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘদিন ধরে সিডনির বন্দর এলাকা ও কেন্দ্রীয় ব্যবসায়িক অঞ্চল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। নতুন বিমানবন্দরকে ঘিরে পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছে সরকার।
বিমানবন্দরের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে পশ্চিম সিডনির যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন ও বাণিজ্যে এর প্রভাব বাড়তে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন রুট চালু এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি।
আরও পড়ুন: তথ্যপ্রকাশ ডটকমের আন্তর্জাতিক সংবাদ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 





















