ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ প্রশাসক ডা. শাহাদাতের কেশবপুরে স্যালোমেশিনের পানির গর্ত থেকে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার যশোরে লংমার্চের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: সাত দফা মানুন, নইলে এক দফার আন্দোলন ইটনায় নৌকায় সার পাচারের সময় ১০৮ বস্তা সার জব্দ, আটক নেই কেউ পাথরঘাটায় দুটি অবৈধ ট্রলিং বোটসহ ২১ জেলে আটক ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুরে মুগ্ধ চট্টগ্রামের দর্শক-শ্রোতা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির দায়িত্বে ছিলেন সানি, নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড টলিউডে ফেডারেশনের নির্বাচন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, ভোটপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন মিঠুন চক্রবর্তী ইউক্রেনের জন্য ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের, সরবরাহে লাগতে পারে কয়েক বছর

ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির দায়িত্বে ছিলেন সানি, নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানি (৩৪)-কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গত ৩০ অক্টোবর রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান, অবস্থান শনাক্তকরণ ও নিবিড় নজরদারির পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সানি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার সাতবসু এলাকার মো. মালেকের ছেলে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি আগে বিদেশে অবস্থান করতেন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর থেকে চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি।

ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সানি জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা প্রভাব ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ডও জেলা গোয়েন্দা শাখার হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজির সঙ্গে সানির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা, তার সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের অন্যান্য কর্মকাণ্ড উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেপ্তার তৎপরতার মুখে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রের সদস্যরা অন্য জেলায় আত্মগোপন করলেও তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ প্রশাসক ডা. শাহাদাতের

ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির দায়িত্বে ছিলেন সানি, নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানি (৩৪)-কে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

গত ৩০ অক্টোবর রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান, অবস্থান শনাক্তকরণ ও নিবিড় নজরদারির পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সানি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার সাতবসু এলাকার মো. মালেকের ছেলে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।

জেলা গোয়েন্দা শাখার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সানি বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি আগে বিদেশে অবস্থান করতেন। বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন। এরপর থেকে চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি।

ডিবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সানি জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা প্রভাব ও ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কিংবা অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হলে সানির নির্দেশে স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেপ্তার সানির বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় পৃথক দুটি মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি ঘটনার অডিও রেকর্ডও জেলা গোয়েন্দা শাখার হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

চাঁদাবাজির সঙ্গে সানির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা, তার সহযোগীদের পরিচয় এবং অপরাধী চক্রের অন্যান্য কর্মকাণ্ড উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখা।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধারাবাহিক অভিযান ও গ্রেপ্তার তৎপরতার মুখে বড় সাজ্জাদ ও ডেভিড ইমনের নির্দেশনায় চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্রের সদস্যরা অন্য জেলায় আত্মগোপন করলেও তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।