স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক কাজে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) দিবসটি উপলক্ষে সিভিল সার্জন কার্যালয়, সুনামগঞ্জের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন জনাব চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সুমন বনিক। এ সময় সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান একটি মহৎ মানবিক উদ্যোগ। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন জটিলতা ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের জীবন বাঁচাতে নিরাপদ রক্তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সুস্থ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও অন্য একজন মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চক্ষুদানে আগ্রহীদের উদ্বুদ্ধ করা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি মানবতা, সহমর্মিতা ও পরোপকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই এ ধরনের মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি তরুণ সমাজ, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের মানবকল্যাণে এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
‘আপনার এক ব্যাগ রক্ত বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ, আর মরণোত্তর চক্ষুদান ফিরিয়ে দিতে পারে কারও দৃষ্টির আলো।’ এই মানবিক বার্তাকে সামনে রেখে রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
মানবতার কল্যাণে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মহৎ উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানের মধ্য দিয়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।
জামিল হোসেন, শিক্ষানবিশ প্রতিনিধি 














