ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন টেস্টে ইতিহাস গড়লেন তাওহিদ হৃদয়, ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভাঙলেন একের পর এক রেকর্ড সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের সদস্যসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৬ দিনাজপুর অঞ্চলে মেধার স্বাক্ষর, ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা যশোরে নানা আয়োজনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালন হৃদয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ, ডাবল সেঞ্চুরির অপেক্ষা ৭ নভেম্বর সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়: নাজিমুর রহমান অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা ছাতকে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত সুনামগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান করেছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (পিজিটিডিএ, চমেকহা)।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
পিজিটিডিএ চমেকহার সভাপতি ডা. তানভীর হাবীব তান্নার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম ফরহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাব চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী এবং ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চমেক শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আসমা ফেরদৌসী, ডা. কামরুন্নাহার লুনা, ডা. সেলিনা হক ও ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন; নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহতাব উল ইসলাম এবং চিকিৎসক ডা. সাইফ সোহাগ, ডা. মাহমুদ আল ফারাবী, ডা. আসহাব মাহারাজ, ডা. কামরুজ্জামান, ডা. সামিউল করিম, ডা. শাহরিয়ার সিলভা ডা. মাইমুন রিদোয়ান ও ডা. ইয়াসির আরাফাতসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোজন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ না রেখে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের কল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর বিশেষ আবেগ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।
নিজের চিকিৎসা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইলেকট্রোমায়োগ্রাম (ইএমজি), নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি এবং বিভিন্ন আধুনিক নিউরোফিজিওলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রযুক্তি চট্টগ্রামে পরিচিত করার ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসার নির্ভুলতা বাড়ায়। তাই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন যেন থেমে না যায়। কোনো সরকারের সময় নেওয়া ভালো উদ্যোগ পরবর্তী সরকার এসে বন্ধ করে দেবে—এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো মেধাবী ও যোগ্য চিকিৎসক যেন বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হন। একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাই তাঁর মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। বিরোধী মতাদর্শের হলেও যোগ্য ব্যক্তিকে যথাযথ সম্মান ও সুযোগ দিতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যাতে কোনো কারণে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা এবং হাসপাতালের নিজস্ব অর্থায়নের সমন্বয়ে এসব সেবা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখার বিষয়ে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবার মান দিয়েই নয়, এর সার্বিক পরিবেশ দিয়েও পরিচিত হয়। রোগী ও স্বজনদের নির্বিঘ্ন চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও নিয়মিত তদারকি করেন। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে টেকসই করতে হলে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান বসানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। রোগী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, চিকিৎসকরা শুধু রোগীর চিকিৎসা করেই তাঁদের দায়িত্ব শেষ করবেন না; হাসপাতালের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নেও তাঁদের ভূমিকা রাখতে হবে। একটি বিভাগে ভালো উদ্যোগ ও দৃষ্টান্ত তৈরি করা গেলে তা পর্যায়ক্রমে পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

Update Time : ১০:২১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর প্রদান করেছে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (পিজিটিডিএ, চমেকহা)।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালের অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
পিজিটিডিএ চমেকহার সভাপতি ডা. তানভীর হাবীব তান্নার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম ফরহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. তসলিম উদ্দিন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ, ড্যাব চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী এবং ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চমেক শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আসমা ফেরদৌসী, ডা. কামরুন্নাহার লুনা, ডা. সেলিনা হক ও ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন; নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহতাব উল ইসলাম এবং চিকিৎসক ডা. সাইফ সোহাগ, ডা. মাহমুদ আল ফারাবী, ডা. আসহাব মাহারাজ, ডা. কামরুজ্জামান, ডা. সামিউল করিম, ডা. শাহরিয়ার সিলভা ডা. মাইমুন রিদোয়ান ও ডা. ইয়াসির আরাফাতসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোজন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের জীবন রক্ষায় অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এ উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ না রেখে হাসপাতালের অন্যান্য বিভাগেও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চিকিৎসা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের কল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর বিশেষ আবেগ ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।
নিজের চিকিৎসা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রামে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ইলেকট্রোমায়োগ্রাম (ইএমজি), নার্ভ কন্ডাকশন ভেলোসিটি এবং বিভিন্ন আধুনিক নিউরোফিজিওলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রযুক্তি চট্টগ্রামে পরিচিত করার ক্ষেত্রে তিনি কাজ করেছেন। রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চিকিৎসার নির্ভুলতা বাড়ায়। তাই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন যেন থেমে না যায়। কোনো সরকারের সময় নেওয়া ভালো উদ্যোগ পরবর্তী সরকার এসে বন্ধ করে দেবে—এমন মানসিকতা পরিহার করতে হবে। চিকিৎসাসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলোতে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে কোনো মেধাবী ও যোগ্য চিকিৎসক যেন বঞ্চনা বা বৈষম্যের শিকার না হন। একজন চিকিৎসকের যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধাই তাঁর মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত। বিরোধী মতাদর্শের হলেও যোগ্য ব্যক্তিকে যথাযথ সম্মান ও সুযোগ দিতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যাতে কোনো কারণে ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা এবং হাসপাতালের নিজস্ব অর্থায়নের সমন্বয়ে এসব সেবা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখার বিষয়ে উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, একটি হাসপাতাল শুধু চিকিৎসাসেবার মান দিয়েই নয়, এর সার্বিক পরিবেশ দিয়েও পরিচিত হয়। রোগী ও স্বজনদের নির্বিঘ্ন চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি ব্যক্তিগতভাবেও নিয়মিত তদারকি করেন। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তা পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে টেকসই করতে হলে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালের ফুটপাত ও চলাচলের জায়গা দখল করে দোকান বসানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। রোগী, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, চিকিৎসকরা শুধু রোগীর চিকিৎসা করেই তাঁদের দায়িত্ব শেষ করবেন না; হাসপাতালের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও সামগ্রিক সেবার মান উন্নয়নেও তাঁদের ভূমিকা রাখতে হবে। একটি বিভাগে ভালো উদ্যোগ ও দৃষ্টান্ত তৈরি করা গেলে তা পর্যায়ক্রমে পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।