ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চকবাজারের মঞ্জুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে, টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টা অভিযান নাগেশ্বরীতে আ.লীগ-জাতীয় পার্টির নেতাদের সার ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ দুর্গাপূজায় টানা ৮ দিন বন্ধ বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব খাগড়াছড়ির কৃষি ও হস্তশিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ইপিবির মতবিনিময় সভা সোমবার ইসি সভায় চূড়ান্ত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, হ্যাটট্রিক জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে যুবারা রমনায় শুরু ৩৬তম বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুর জুনিয়র জে-৩০, কাল চার ফাইনাল ফের নাকচ এমপি গাজী নজরুলের জামিন আবেদন শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও প্লাটিনাম জব্দ

ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬% শক্তিশালী হয়েছে টাকা

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের একই দিনে এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০.৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই হার ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি।

অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির তুলনায় বাংলাদেশি টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এক টাকা দিয়ে বেশি পরিমাণ ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া যাচ্ছে।

বিপরীত হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যায়। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির দাম ছিল প্রায় ১.২৮ বাংলাদেশি টাকা। এক বছর আগে এই দাম ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এক বছর আগের তুলনায় এখন প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।

দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.৪৩ টাকা। সেই তুলনায় বর্তমানে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও একই চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচ অপরিবর্তিত থাকলে টাকার মূল্য বাড়ার ফলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য বা সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম অর্থ ব্যয় করতে হবে।

এর ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বিনিময় হারের এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

বাজারদরে কতটা প্রভাব পড়বে, নির্ভর করছে অন্য খরচেও

তবে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আমদানি পণ্যের বাজারদর সরাসরি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের মতে, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সূচক হিসেবে না দেখে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারীরাও পেতে পারেন সুবিধা

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্যও টাকার শক্তিশালী অবস্থান কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য তুলনামূলক বেশি থাকলে ভারতে থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, আবাসনসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যয়ের বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করা খরচ কমতে পারে।

তবে শুধু বিনিময় হার দিয়ে আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয়, কর এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুশৃঙ্খল বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চকবাজারের মঞ্জুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে, টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টা অভিযান

ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬% শক্তিশালী হয়েছে টাকা

Update Time : ০৪:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতীয় রুপির বিপরীতে গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি টাকা। এ সময়ে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু গত এক বছরেই টাকার মূল্য বেড়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিনিময় হারসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের একই দিনে এক টাকা দিয়ে পাওয়া যেত প্রায় ০.৭২ রুপি। আর ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এই হার ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি।

অর্থাৎ, দুই বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির তুলনায় বাংলাদেশি টাকার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এক টাকা দিয়ে বেশি পরিমাণ ভারতীয় মুদ্রা পাওয়া যাচ্ছে।

বিপরীত হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যায়। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির দাম ছিল প্রায় ১.২৮ বাংলাদেশি টাকা। এক বছর আগে এই দাম ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। অর্থাৎ, এক ভারতীয় রুপি কিনতে এক বছর আগের তুলনায় এখন প্রায় ৯ দশমিক ৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে।

দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.৪৩ টাকা। সেই তুলনায় বর্তমানে রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যেও একই চিত্র

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যেও ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান দেখা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রায় ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমতে পারে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচ অপরিবর্তিত থাকলে টাকার মূল্য বাড়ার ফলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য বা সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম অর্থ ব্যয় করতে হবে।

এর ফলে ভারত থেকে পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন। কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বিনিময় হারের এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।

বাজারদরে কতটা প্রভাব পড়বে, নির্ভর করছে অন্য খরচেও

তবে টাকার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে আমদানি পণ্যের বাজারদর সরাসরি কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক-কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের মতে, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সূচক হিসেবে না দেখে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারীরাও পেতে পারেন সুবিধা

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের জন্যও টাকার শক্তিশালী অবস্থান কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য তুলনামূলক বেশি থাকলে ভারতে থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, আবাসনসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যয়ের বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করা খরচ কমতে পারে।

তবে শুধু বিনিময় হার দিয়ে আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারিত হয় না। সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয়, কর এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুশৃঙ্খল বৈদেশিক মুদ্রাবাজার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।