ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
মহানবমীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মা ইলিশ রক্ষায় নৌবাহিনীর অভিযান, জব্দ ২৫ কোটি টাকার অবৈধ জাল মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন ইশরাক হোসেন স্লো ওভার রেটের দায়ে বাংলাদেশের ৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা কুমিল্লায় রাসায়নিক দিয়ে কলা পাকানো, আড়তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা; ৮ ডিসেম্বর আপিল শুনানি ঢাকা বোর্ডে এসএসসি বৃত্তির তালিকা প্রকাশ, মেধাবীরা পাবেন মাসে ৬০০ টাকা কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সব উপজেলায় কমিটি, সভাপতি ইউএনও কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার মামলায় পল ম্যাকেঞ্জির রায় প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি, আবেদন ২৫ অক্টোবর থেকে

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড, আগস্টে আয় ৬৪৩ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির গতি বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বাজারে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সেই গড় বেড়ে হয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।

অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে এসব দেশের অংশও কিছুটা বেড়েছে। গত অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য বড় ধরনের সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব বাজারে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন বাজার বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে এসব দেশের দিকে কৌশলগতভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, অপ্রচলিত বাজারকে শুধু উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার হিসেবে দেখলে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাবে না। এসব দেশে বিভিন্ন শ্রেণির তৈরি পোশাকের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন গন্তব্যে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল জাপান। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।

এ সময় অস্ট্রেলিয়ায় ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়।

এ ছাড়া মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।

আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজার থেকে এসেছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নতুন দেশে রপ্তানি বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বাজার আরও বৈচিত্র্যময় হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

মহানবমীতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড, আগস্টে আয় ৬৪৩ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি

Update Time : ০৫:৩৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে এসব দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসের হিসাবে সর্বোচ্চ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির গতি বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব বাজারে মাসিক গড় রপ্তানি ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সেই গড় বেড়ে হয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।

অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানিতে এসব দেশের অংশও কিছুটা বেড়েছে। গত অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ অংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জন্য বড় ধরনের সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন এসব বাজারে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন বাজার বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে এসব দেশের দিকে কৌশলগতভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তার মতে, অপ্রচলিত বাজারকে শুধু উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার হিসেবে দেখলে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগানো যাবে না। এসব দেশে বিভিন্ন শ্রেণির তৈরি পোশাকের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে। ফলে প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন গন্তব্যে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল জাপান। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।

এ সময় অস্ট্রেলিয়ায় ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়।

এ ছাড়া মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজার মিলিয়ে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক।

আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজার থেকে এসেছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নতুন দেশে রপ্তানি বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের বাজার আরও বৈচিত্র্যময় হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে।