ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ধরলার ভাঙনে জগমনের চর বিপর্যস্ত, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন লাইসেন্স ছাড়াই পেমেন্ট সেবা, ২২টি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে বাসের ধাক্কা, আহত ১৫ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বেনাপোলে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদলের মিছিল যশোরে ট্রেনের ধাক্কায় ইজিবাইক দুমড়ে মুচড়ে নিহত দুই  যশোরবাসী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ সেবা পাবে : প্রতিমন্ত্রী অমিত অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড, আগস্টে আয় ৬৪৩ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি আবাসস্থল পরিবর্তনে ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম ফের চালু করল ইসি ভারতীয় রুপির বিপরীতে দুই বছরে ১১.৬% শক্তিশালী হয়েছে টাকা

ধরলার ভাঙনে জগমনের চর বিপর্যস্ত, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও আবাদি জমির পর এবার নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগমনের চরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে জগমনের চর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতভিটা ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। একসময়ের জনবসতিপূর্ণ এই চর এখন নদীভাঙনের কারণে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।

স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জগমনের চরের শেষ অস্তিত্বটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেলে এলাকার মানুষের শিক্ষা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও সামাজিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, “প্রতিবছরই নদীভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি হারাতে হয়। নতুন করে ঘর বাঁধি, কিন্তু নদী সেই ঘরে থাকতে দেয় না। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এই চর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”

আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, “সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। নদীর যে পরিমাণ ভাঙন চলছে, তাতে বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেলে শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নদীভাঙন নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারানোর আশঙ্কায় তাদের দিন কাটছে। আজ যে বাড়িটি রয়েছে, আগামী বর্ষায় সেটি থাকবে কি না—এমন অনিশ্চয়তা নিয়েই বসবাস করছেন তারা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকা টেকসইভাবে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয় এবং কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়—এ জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ধরলার ভাঙনে জগমনের চর বিপর্যস্ত, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

ধরলার ভাঙনে জগমনের চর বিপর্যস্ত, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : ০৩:১৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চরে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও আবাদি জমির পর এবার নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগমনের চরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে জগমনের চর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতভিটা ও খেলার মাঠ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। একসময়ের জনবসতিপূর্ণ এই চর এখন নদীভাঙনের কারণে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।

স্থানীয়রা বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জগমনের চরের শেষ অস্তিত্বটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে মসজিদ, বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কবরস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নদীভাঙনের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেলে এলাকার মানুষের শিক্ষা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও সামাজিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, “প্রতিবছরই নদীভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমি হারাতে হয়। নতুন করে ঘর বাঁধি, কিন্তু নদী সেই ঘরে থাকতে দেয় না। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এই চর রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”

আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, “সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি। নদীর যে পরিমাণ ভাঙন চলছে, তাতে বিদ্যালয় নদীগর্ভে চলে গেলে শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নদীভাঙন নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারানোর আশঙ্কায় তাদের দিন কাটছে। আজ যে বাড়িটি রয়েছে, আগামী বর্ষায় সেটি থাকবে কি না—এমন অনিশ্চয়তা নিয়েই বসবাস করছেন তারা।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকা টেকসইভাবে রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয় এবং কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়—এ জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।