প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটি সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের দাবি ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
এজাহারে মোহাম্মদ আলমগীর দাবি করেন, সালমান শাহের মৃত্যুর দিন তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে তাকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সালমান শাহের পরিবারের সদস্যরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন এবং তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মনে করেননি। তার বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও জীবিত থাকা অবস্থায় ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে আদালতে আবেদন করেছিলেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। অভিযুক্তদের কেউ মারা গিয়ে থাকলে, তা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















