ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ আজ সকাল ১১টায়, অনলাইন ও এসএমএসে জানবেন যেভাবে নভেম্বর থেকে টিসিবির পণ্যের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে হলুদ-মরিচের গুঁড়া ও চা ভারত থেকে ট্রাভেল ও এক্সিট পারমিটে দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি নারী যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি পরিচয়ে চাঁদা দাবি, সতর্ক করল জেলা পুলিশ অবহেলিত ও অধিকারবঞ্চিত শিশুদের পুনর্বাসনই সরকারের লক্ষ্য: সমাজকল্যাণমন্ত্রী গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে গার্মেন্টসকর্মীর মৃত্যু নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিশুদের সৃজনশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের হরমুজ প্রণালীতে মাইনের আঘাতে চার তেলবাহী জাহাজে আগুন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নিয়ে ইরানের প্রশ্ন জি২০ বৈঠকে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন লাভরভ

ইউপিজিডিসিএল ও কেপিসিএলের শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি, কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের সময়

পুঁজিবাজারে অনিয়ম শনাক্ত, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং এবং বাজার কারসাজির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

গত ৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত আদেশে এসব লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। তদন্তের আওতায় রয়েছেন ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। সংশোধিত আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে ইনসাইডার ট্রেডিং ও প্রকৃত মালিকানা গোপন

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার আদেশ অনুযায়ী, এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করবে তদন্ত কমিটি। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অন্য ব্যক্তির নামে খোলা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব এবং ট্রেডিং হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার লেনদেন, সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি ও প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার বিষয়।

তদন্তে ইউইসিএল, প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মালিকানাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহযোগীদের নামে থাকা প্রাসঙ্গিক বিও, ট্রেডিং ও ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করা হবে। এসব হিসাব কে পরিচালনা করেছেন, কারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং লেনদেনের মাধ্যমে কারা সুবিধা পেয়েছেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করবে কমিটি।

অর্থের উৎস ও সুবিধাভোগীদের শনাক্তে গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট শেয়ার কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে তা স্থানান্তরিত হয়েছে এবং কোন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ইউইসিএল অথবা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থের কোনো প্রবাহ ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।

একই সঙ্গে শেয়ার, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয় থেকে পাওয়া অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং চূড়ান্ত অর্থগ্রহীতাদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের মাধ্যমে কেনা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।

কোনো হিসাব বা লেনদেনের কাঠামো ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা কিংবা নিয়ন্ত্রণ গোপন করা হয়েছিল কি না, তারও প্রমাণ খুঁজবে তদন্ত কমিটি।

শেয়ারবাজারে কারসাজির ধরন খতিয়ে দেখা হবে

ইউপিজিডিসিএল, কেপিসিএল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কৃত্রিম, সমন্বিত, প্রতারণামূলক বা কারসাজিমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় থাকবে।

পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে কোনো শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। এমন তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তথ্যটি কার কাছে ছিল, কীভাবে তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে কারা যুক্ত ছিলেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের ভূমিকা পর্যালোচনার পাশাপাশি এম এম হাবিবুল্লাহ, নুরুজ্জামান জিন্নাহ এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে।

ব্রোকার, ব্যাংক ও সিডিবিএলের কার্যক্রমও যাচাই

তদন্তের পরিধিতে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হিসাব খোলা ও পরিচালনা, শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দেওয়া ও কার্যকর করা, অর্থ ও শেয়ার স্থানান্তর এবং লভ্যাংশসহ অন্যান্য অর্থের লেনদেনে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারসংক্রান্ত আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে কমিটি। সম্ভাব্য অনিয়মের মধ্যে রয়েছে ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি, প্রতারণামূলক বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম, অননুমোদিতভাবে হিসাব পরিচালনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা গোপন করা।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নজরদারি

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে এসব অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, লেনদেনের প্রকৃত চিত্র উদঘাটন এবং সম্ভাব্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তদন্তের নির্ধারিত বিষয়গুলোর বাইরে এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলেও তা অনুসন্ধানের সুযোগ রাখা হয়েছে আদেশে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল এবং পরবর্তী নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে এ ঘটনায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ আজ সকাল ১১টায়, অনলাইন ও এসএমএসে জানবেন যেভাবে

ইউপিজিডিসিএল ও কেপিসিএলের শেয়ার লেনদেন তদন্তে বিএসইসি, কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের সময়

Update Time : ০৫:৩৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পুঁজিবাজারে অনিয়ম শনাক্ত, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নজরদারি জোরদার করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কথিত ইনসাইডার ট্রেডিং এবং বাজার কারসাজির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

গত ৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত আদেশে এসব লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। তদন্তের আওতায় রয়েছেন ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কমিশনের যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। সংশোধিত আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে ইনসাইডার ট্রেডিং ও প্রকৃত মালিকানা গোপন

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার আদেশ অনুযায়ী, এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করবে তদন্ত কমিটি। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অন্য ব্যক্তির নামে খোলা বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব এবং ট্রেডিং হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার লেনদেন, সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি ও প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার বিষয়।

তদন্তে ইউইসিএল, প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, মালিকানাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, আত্মীয়স্বজন, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহযোগীদের নামে থাকা প্রাসঙ্গিক বিও, ট্রেডিং ও ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করা হবে। এসব হিসাব কে পরিচালনা করেছেন, কারা নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং লেনদেনের মাধ্যমে কারা সুবিধা পেয়েছেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করবে কমিটি।

অর্থের উৎস ও সুবিধাভোগীদের শনাক্তে গুরুত্ব

সংশ্লিষ্ট শেয়ার কেনার অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে তা স্থানান্তরিত হয়েছে এবং কোন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ইউইসিএল অথবা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থের কোনো প্রবাহ ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।

একই সঙ্গে শেয়ার, লভ্যাংশ ও অন্যান্য আয় থেকে পাওয়া অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং চূড়ান্ত অর্থগ্রহীতাদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবের মাধ্যমে কেনা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।

কোনো হিসাব বা লেনদেনের কাঠামো ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা কিংবা নিয়ন্ত্রণ গোপন করা হয়েছিল কি না, তারও প্রমাণ খুঁজবে তদন্ত কমিটি।

শেয়ারবাজারে কারসাজির ধরন খতিয়ে দেখা হবে

ইউপিজিডিসিএল, কেপিসিএল ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কৃত্রিম, সমন্বিত, প্রতারণামূলক বা কারসাজিমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় থাকবে।

পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অপ্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে কোনো শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হবে। এমন তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে তথ্যটি কার কাছে ছিল, কীভাবে তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে কারা যুক্ত ছিলেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।

হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের ভূমিকা পর্যালোচনার পাশাপাশি এম এম হাবিবুল্লাহ, নুরুজ্জামান জিন্নাহ এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হবে।

ব্রোকার, ব্যাংক ও সিডিবিএলের কার্যক্রমও যাচাই

তদন্তের পরিধিতে সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হিসাব খোলা ও পরিচালনা, শেয়ার কেনাবেচার আদেশ দেওয়া ও কার্যকর করা, অর্থ ও শেয়ার স্থানান্তর এবং লভ্যাংশসহ অন্যান্য অর্থের লেনদেনে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারসংক্রান্ত আইন, বিধি, প্রবিধান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে কমিটি। সম্ভাব্য অনিয়মের মধ্যে রয়েছে ইনসাইডার ট্রেডিং, বাজার কারসাজি, প্রতারণামূলক বা বিভ্রান্তিকর কার্যক্রম, অননুমোদিতভাবে হিসাব পরিচালনা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা গোপন করা।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় নজরদারি

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে এসব অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, লেনদেনের প্রকৃত চিত্র উদঘাটন এবং সম্ভাব্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তদন্তের নির্ধারিত বিষয়গুলোর বাইরে এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলেও তা অনুসন্ধানের সুযোগ রাখা হয়েছে আদেশে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল এবং পরবর্তী নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে এ ঘটনায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।