ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব খাগড়াছড়ির কৃষি ও হস্তশিল্পপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ইপিবির মতবিনিময় সভা সোমবার ইসি সভায় চূড়ান্ত হবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, হ্যাটট্রিক জয়ে শিরোপার লড়াইয়ে যুবারা রমনায় শুরু ৩৬তম বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড টেনিস ট্যুর জুনিয়র জে-৩০, কাল চার ফাইনাল ফের নাকচ এমপি গাজী নজরুলের জামিন আবেদন শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকার স্বর্ণ, ডায়মন্ড ও প্লাটিনাম জব্দ দুর্গাপূজায় ৩ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলওয়ে, ৫ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন জারি, চাপে ইমরান খানের দল চাঁদপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২০, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৭০
ফ্রান্সের চাহিদা বড় বাজেটের, জার্মানির নেতৃত্বে ছয় দেশের আরও ব্যয়সংকোচনের দাবি; কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে বাড়ছে মতপার্থক্য

ইইউর সাত বছরের বাজেটে ১৪১ বিলিয়ন ইউরো ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব, তবু সমঝোতা অধরা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মতবিরোধ কমাতে নতুন সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। প্রস্তাবে ইউরোপীয় কমিশনের মূল পরিকল্পনা থেকে ১৪১ বিলিয়ন ইউরো কমিয়ে বাজেটের আকার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এই কাটছাঁটকে যথেষ্ট মনে করছে না জার্মানিসহ ব্যয়সংকোচনের পক্ষে থাকা কয়েকটি দেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একাংশ মনে করছে, প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমানো হলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রয়টার্সের ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবে ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের বাজেট প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউরোতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে ইউরোপীয় কমিশনের মূল প্রস্তাবের তুলনায় এটি প্রায় ৮ শতাংশ কম। তবে বর্তমান ২০২১-২০২৭ মেয়াদের বাজেটের তুলনায় নতুন প্রস্তাবটি প্রায় ৩০ শতাংশ বড়। আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। (সূত্র: রয়টার্স, ১০ অক্টোবর ২০২৬)

মূল বাজেট প্রস্তাব কত বড়

ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের জন্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর দীর্ঘমেয়াদি বাজেট প্রস্তাব করে। ২০২৫ সালের স্থিরমূল্যে এর পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭৬৩ ট্রিলিয়ন ইউরো, যা ইইউর গড় মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ১ দশমিক ২৬ শতাংশের সমান।

বাজেটটির আনুষ্ঠানিক নাম মাল্টি-অ্যানুয়াল ফিন্যান্সিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক (এমএফএফ)। সাত বছরের এই আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ জোটের বিভিন্ন নীতিতে অর্থায়ন করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের যুক্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির প্রয়োজন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাহিদা মেটাতে ইইউর আরও নমনীয় ও কার্যকর বাজেট দরকার। পাশাপাশি কৃষক, অঞ্চল ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রচলিত সহায়তাও বজায় রাখতে হবে।

তবে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত বাজেট নয়। সদস্যদেশগুলোর আলোচনা, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি পাওয়ার পরই এটি আইনি রূপ পাবে।

জার্মানির নেতৃত্বে ছয় দেশের ব্যয় কমানোর দাবি

জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব দেশ ইইউর বাজেটে অর্থ প্রদানের বোঝা, নিজ নিজ দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশগুলো আয়ারল্যান্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাজেট থেকে কয়েক শ বিলিয়ন ইউরো কমানোর দাবি জানায়। তাদের মতে, ইইউর নতুন অগ্রাধিকারগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে হলেও সামগ্রিক ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

১০ অক্টোবর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও বলেন, ইইউর বাজেটের আকার এমন হতে হবে, যাতে যারা এর অর্থায়নের বড় অংশ বহন করে, তাদের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হয়।

আয়ারল্যান্ডের সংশোধিত প্রস্তাব প্রকাশের পরও নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে। ফলে বাজেট কমানোর দাবি এবং ইউরোপীয় পর্যায়ে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ফ্রান্সের অবস্থান: প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ

ফ্রান্স মনে করে, ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে বড় বাজেট প্রয়োজন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ব্যাপক ব্যয়ছাঁটের বিরোধিতা করেছেন।

গত মাসে মাখোঁ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে সহায়তা দিতে আরও শক্তিশালী ইউরোপীয় বাজেট প্রয়োজন।

ফ্রান্সের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে সমন্বিত ইউরোপীয় বিনিয়োগ জরুরি। তবে এ ধরনের ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং সদস্যদেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কতটা পড়বে, সে প্রশ্নে মতভেদ রয়ে গেছে।

ফ্রান্স নিজেও ঋণ ও বাজেটঘাটতির চাপ মোকাবিলা করছে। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেন ইইউর বাজেটে ফ্রান্সের অবদান কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে ইউরোপীয় বাজেটে বেশি অর্থ দেওয়ার প্রশ্নটি ফরাসি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্কের বিষয়।

কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ

বাজেট আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হলো ‘ফ্রেন্ডস অব কোহেশন’ বা ‘সংহতির পক্ষে বন্ধুরা’ নামে পরিচিত ১৭টি সদস্যদেশের জোট। এই দেশগুলো কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে।

ইইউর আঞ্চলিক সংহতি নীতির উদ্দেশ্য হলো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। কৃষি খাতের সহায়তাও ইউরোপীয় বাজেটের অন্যতম বড় অংশ।

সংহতির পক্ষে থাকা দেশগুলোর আশঙ্কা, সামগ্রিক বাজেটের আকার বাড়লেও প্রচলিত কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমানো হলে তাদের কৃষক ও অপেক্ষাকৃত কম উন্নত অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গবেষণা বিভাগও বাজেট আলোচনায় এই বিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একদিকে কয়েকটি দেশ বড় ধরনের কাটছাঁট চাইছে, অন্যদিকে ১৭ দেশের জোট কৃষি ও সংহতি খাতের বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখতে চাপ দিচ্ছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবে কোন খাতে কতটা কাটছাঁট

১০ অক্টোবর প্রকাশিত সংশোধিত আলোচনাপত্রে ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে পৃথক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

  • কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও মৎস্য খাত: ইউরোপীয় কমিশনের মূল প্রস্তাবের তুলনায় বরাদ্দ প্রায় ৩ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে।
  • প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা: এ খাতের ব্যয় প্রায় ১৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
  • সামগ্রিক বাজেট: মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা মূল প্রস্তাবের তুলনায় ১৪১ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৮ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: সামগ্রিক বাজেটের আকার কমানোর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি খাতের বরাদ্দ একই হারে কমবে। কোনো খাতে কাটছাঁট তুলনামূলক কম হলে অন্য খাতে বেশি হ্রাসের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে বাজেটের মোট অঙ্কের পাশাপাশি কোন খাতে কত অর্থ থাকছে, সেটিও সদস্যদেশগুলোর দর-কষাকষিতে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন রাজস্বের উৎস খুঁজছে ইউরোপীয় কমিশন

বাজেটের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় কমিশন সদস্যদেশগুলোর নিয়মিত অবদানের বাইরে নতুন রাজস্বের উৎস তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের সংশোধিত আলোচনাপত্রেও প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ইউরোর নতুন অর্থায়নের সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের অংশ;
  • কার্বন নিঃসরণ অনুমতিপত্র বিক্রি থেকে সদস্যদেশগুলোর পাওয়া অর্থের একটি অংশ;
  • ইউরোপীয় ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট বার্ষিক অবদান।

এর বাইরে ইউরোপীয় কমিশনের রাজস্বসংক্রান্ত পরিকল্পনায় তামাকজাত পণ্যের ওপর করসহ অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসের কথাও রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন জুয়া খাতের ওপর কর আরোপের প্রস্তাবও সমর্থন করেছে।

তবে নতুন রাজস্বের উৎস নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য নেই। কোনো প্রস্তাব আলোচনাপত্রে থাকা মানেই সেটি অনুমোদিত করব্যবস্থা হয়ে গেছে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোকে চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও আইনি অনুমোদন পেতে হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সর্বসম্মতি প্রয়োজন

ইইউর দীর্ঘমেয়াদি বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সাধারণ বার্ষিক বাজেটের তুলনায় আলাদা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যপ্রণালি চুক্তির ৩১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাউন্সিলকে সর্বসম্মতিক্রমে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামো গ্রহণ করতে হয়। এর আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি প্রয়োজন।

অর্থাৎ, ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সদস্যদেশের আপত্তি থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জনকে লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এর ফলে ২০২৭ সালে বাজেটসংক্রান্ত আইন ও কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করার সুযোগ থাকবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বাজেট কার্যকর করা সম্ভব হবে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ সমঝোতা না হলেও বাজেট প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। তবে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হলে নতুন কর্মসূচি প্রস্তুত, অর্থ বরাদ্দ এবং সদস্যদেশ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

আয়ারল্যান্ডের সংশোধিত প্রস্তাবটি সদস্যদেশগুলোর অবস্থান কাছাকাছি আনার একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের আরও ব্যয় কমানোর দাবি, ফ্রান্সের বড় বাজেটের পক্ষে অবস্থান এবং কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বরাদ্দ ধরে রাখার চাপ—সব মিলিয়ে সমঝোতার পথ এখনো জটিল।

১৫-১৬ অক্টোবরের ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক থেকে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের আশা করা হচ্ছে না; বরং সেখানে সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্য কমিয়ে বছরের শেষ নাগাদ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা হবে।

ইইউর সামনে মূল প্রশ্ন হলো, প্রতিরক্ষা ও প্রতিযোগিতার মতো নতুন অগ্রাধিকারে অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রচলিত কর্মসূচি কতটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে সদস্যদেশগুলোর অর্থায়নের সক্ষমতা ও নতুন রাজস্ব সংগ্রহের প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে।

আগামী সাত বছরের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই আলোচনার ফল শুধু বাজেটের মোট অঙ্ক নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন খাতে কতটা বিনিয়োগ করবে এবং সদস্যদেশগুলোর মধ্যে আর্থিক দায় কীভাবে ভাগ হবে, তা-ও নির্ধারণ করবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে টেকসই ব্লু ইকোনমি বিকাশে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব

ফ্রান্সের চাহিদা বড় বাজেটের, জার্মানির নেতৃত্বে ছয় দেশের আরও ব্যয়সংকোচনের দাবি; কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়ে বাড়ছে মতপার্থক্য

ইইউর সাত বছরের বাজেটে ১৪১ বিলিয়ন ইউরো ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব, তবু সমঝোতা অধরা

Update Time : ০২:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মতবিরোধ কমাতে নতুন সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। প্রস্তাবে ইউরোপীয় কমিশনের মূল পরিকল্পনা থেকে ১৪১ বিলিয়ন ইউরো কমিয়ে বাজেটের আকার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। তবে এই কাটছাঁটকে যথেষ্ট মনে করছে না জার্মানিসহ ব্যয়সংকোচনের পক্ষে থাকা কয়েকটি দেশ। অন্যদিকে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের একাংশ মনে করছে, প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমানো হলে ইউরোপের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রয়টার্সের ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবে ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের বাজেট প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইউরোতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে ইউরোপীয় কমিশনের মূল প্রস্তাবের তুলনায় এটি প্রায় ৮ শতাংশ কম। তবে বর্তমান ২০২১-২০২৭ মেয়াদের বাজেটের তুলনায় নতুন প্রস্তাবটি প্রায় ৩০ শতাংশ বড়। আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। (সূত্র: রয়টার্স, ১০ অক্টোবর ২০২৬)

মূল বাজেট প্রস্তাব কত বড়

ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ২০২৮-২০৩৪ মেয়াদের জন্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর দীর্ঘমেয়াদি বাজেট প্রস্তাব করে। ২০২৫ সালের স্থিরমূল্যে এর পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭৬৩ ট্রিলিয়ন ইউরো, যা ইইউর গড় মোট জাতীয় আয়ের (জিএনআই) ১ দশমিক ২৬ শতাংশের সমান।

বাজেটটির আনুষ্ঠানিক নাম মাল্টি-অ্যানুয়াল ফিন্যান্সিয়াল ফ্রেমওয়ার্ক (এমএফএফ)। সাত বছরের এই আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন, গবেষণা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ জোটের বিভিন্ন নীতিতে অর্থায়ন করা হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের যুক্তি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতি, প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির প্রয়োজন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের চাহিদা মেটাতে ইইউর আরও নমনীয় ও কার্যকর বাজেট দরকার। পাশাপাশি কৃষক, অঞ্চল ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য প্রচলিত সহায়তাও বজায় রাখতে হবে।

তবে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত বাজেট নয়। সদস্যদেশগুলোর আলোচনা, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি পাওয়ার পরই এটি আইনি রূপ পাবে।

জার্মানির নেতৃত্বে ছয় দেশের ব্যয় কমানোর দাবি

জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, ফিনল্যান্ড ও সুইডেন বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এসব দেশ ইইউর বাজেটে অর্থ প্রদানের বোঝা, নিজ নিজ দেশের আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দেশগুলো আয়ারল্যান্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বাজেট থেকে কয়েক শ বিলিয়ন ইউরো কমানোর দাবি জানায়। তাদের মতে, ইইউর নতুন অগ্রাধিকারগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করতে হলেও সামগ্রিক ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

১০ অক্টোবর জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও বলেন, ইইউর বাজেটের আকার এমন হতে হবে, যাতে যারা এর অর্থায়নের বড় অংশ বহন করে, তাদের পক্ষে তা বহন করা সম্ভব হয়।

আয়ারল্যান্ডের সংশোধিত প্রস্তাব প্রকাশের পরও নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে। ফলে বাজেট কমানোর দাবি এবং ইউরোপীয় পর্যায়ে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ফ্রান্সের অবস্থান: প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ

ফ্রান্স মনে করে, ইউরোপের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে বড় বাজেট প্রয়োজন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ব্যাপক ব্যয়ছাঁটের বিরোধিতা করেছেন।

গত মাসে মাখোঁ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়ন এবং বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে সহায়তা দিতে আরও শক্তিশালী ইউরোপীয় বাজেট প্রয়োজন।

ফ্রান্সের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, নতুন প্রযুক্তির উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে সমন্বিত ইউরোপীয় বিনিয়োগ জরুরি। তবে এ ধরনের ব্যয়ের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং সদস্যদেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কতটা পড়বে, সে প্রশ্নে মতভেদ রয়ে গেছে।

ফ্রান্স নিজেও ঋণ ও বাজেটঘাটতির চাপ মোকাবিলা করছে। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নেত্রী মেরিন লে পেন ইইউর বাজেটে ফ্রান্সের অবদান কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে ইউরোপীয় বাজেটে বেশি অর্থ দেওয়ার প্রশ্নটি ফরাসি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিতর্কের বিষয়।

কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বরাদ্দ নিয়ে উদ্বেগ

বাজেট আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হলো ‘ফ্রেন্ডস অব কোহেশন’ বা ‘সংহতির পক্ষে বন্ধুরা’ নামে পরিচিত ১৭টি সদস্যদেশের জোট। এই দেশগুলো কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর কর্মসূচিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখার দাবি জানিয়েছে।

ইইউর আঞ্চলিক সংহতি নীতির উদ্দেশ্য হলো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। কৃষি খাতের সহায়তাও ইউরোপীয় বাজেটের অন্যতম বড় অংশ।

সংহতির পক্ষে থাকা দেশগুলোর আশঙ্কা, সামগ্রিক বাজেটের আকার বাড়লেও প্রচলিত কর্মসূচিতে বরাদ্দ কমানো হলে তাদের কৃষক ও অপেক্ষাকৃত কম উন্নত অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গবেষণা বিভাগও বাজেট আলোচনায় এই বিরোধকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একদিকে কয়েকটি দেশ বড় ধরনের কাটছাঁট চাইছে, অন্যদিকে ১৭ দেশের জোট কৃষি ও সংহতি খাতের বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখতে চাপ দিচ্ছে।

আয়ারল্যান্ডের প্রস্তাবে কোন খাতে কতটা কাটছাঁট

১০ অক্টোবর প্রকাশিত সংশোধিত আলোচনাপত্রে ব্যয়ের বিভিন্ন খাতে পৃথক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।

  • কৃষি, আঞ্চলিক উন্নয়ন ও মৎস্য খাত: ইউরোপীয় কমিশনের মূল প্রস্তাবের তুলনায় বরাদ্দ প্রায় ৩ শতাংশ কমানোর কথা বলা হয়েছে।
  • প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা: এ খাতের ব্যয় প্রায় ১৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
  • সামগ্রিক বাজেট: মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা মূল প্রস্তাবের তুলনায় ১৪১ বিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ৮ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: সামগ্রিক বাজেটের আকার কমানোর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি খাতের বরাদ্দ একই হারে কমবে। কোনো খাতে কাটছাঁট তুলনামূলক কম হলে অন্য খাতে বেশি হ্রাসের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে বাজেটের মোট অঙ্কের পাশাপাশি কোন খাতে কত অর্থ থাকছে, সেটিও সদস্যদেশগুলোর দর-কষাকষিতে গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন রাজস্বের উৎস খুঁজছে ইউরোপীয় কমিশন

বাজেটের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় কমিশন সদস্যদেশগুলোর নিয়মিত অবদানের বাইরে নতুন রাজস্বের উৎস তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে। আয়ারল্যান্ডের সংশোধিত আলোচনাপত্রেও প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ইউরোর নতুন অর্থায়নের সম্ভাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • শুল্ক থেকে পাওয়া অর্থের অংশ;
  • কার্বন নিঃসরণ অনুমতিপত্র বিক্রি থেকে সদস্যদেশগুলোর পাওয়া অর্থের একটি অংশ;
  • ইউরোপীয় ইউনিয়নে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বড় কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট বার্ষিক অবদান।

এর বাইরে ইউরোপীয় কমিশনের রাজস্বসংক্রান্ত পরিকল্পনায় তামাকজাত পণ্যের ওপর করসহ অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসের কথাও রয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন জুয়া খাতের ওপর কর আরোপের প্রস্তাবও সমর্থন করেছে।

তবে নতুন রাজস্বের উৎস নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য নেই। কোনো প্রস্তাব আলোচনাপত্রে থাকা মানেই সেটি অনুমোদিত করব্যবস্থা হয়ে গেছে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোকে চূড়ান্ত করতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ও আইনি অনুমোদন পেতে হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সর্বসম্মতি প্রয়োজন

ইইউর দীর্ঘমেয়াদি বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়া সাধারণ বার্ষিক বাজেটের তুলনায় আলাদা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কার্যপ্রণালি চুক্তির ৩১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাউন্সিলকে সর্বসম্মতিক্রমে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কাঠামো গ্রহণ করতে হয়। এর আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মতি প্রয়োজন।

অর্থাৎ, ২৭টি সদস্যদেশের মধ্যে বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সদস্যদেশের আপত্তি থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জনকে লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এর ফলে ২০২৭ সালে বাজেটসংক্রান্ত আইন ও কর্মসূচিগুলো চূড়ান্ত করার সুযোগ থাকবে এবং ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বাজেট কার্যকর করা সম্ভব হবে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ সমঝোতা না হলেও বাজেট প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে না। তবে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হলে নতুন কর্মসূচি প্রস্তুত, অর্থ বরাদ্দ এবং সদস্যদেশ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

আয়ারল্যান্ডের সংশোধিত প্রস্তাবটি সদস্যদেশগুলোর অবস্থান কাছাকাছি আনার একটি প্রচেষ্টা। কিন্তু জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের আরও ব্যয় কমানোর দাবি, ফ্রান্সের বড় বাজেটের পক্ষে অবস্থান এবং কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বরাদ্দ ধরে রাখার চাপ—সব মিলিয়ে সমঝোতার পথ এখনো জটিল।

১৫-১৬ অক্টোবরের ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক থেকে চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের আশা করা হচ্ছে না; বরং সেখানে সদস্যদেশগুলোর মতপার্থক্য কমিয়ে বছরের শেষ নাগাদ রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা হবে।

ইইউর সামনে মূল প্রশ্ন হলো, প্রতিরক্ষা ও প্রতিযোগিতার মতো নতুন অগ্রাধিকারে অর্থ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি ও আঞ্চলিক উন্নয়নের প্রচলিত কর্মসূচি কতটা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে সদস্যদেশগুলোর অর্থায়নের সক্ষমতা ও নতুন রাজস্ব সংগ্রহের প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করতে হবে।

আগামী সাত বছরের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার নির্ধারণে এই বাজেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই আলোচনার ফল শুধু বাজেটের মোট অঙ্ক নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন খাতে কতটা বিনিয়োগ করবে এবং সদস্যদেশগুলোর মধ্যে আর্থিক দায় কীভাবে ভাগ হবে, তা-ও নির্ধারণ করবে।