ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের নারী দল ঘোষণা, অধিনায়ক জ্যোতি সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট, ত্রিদেশীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সূচি প্রকাশ অক্টোবরে অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে দুইয়ে কোহলি, শীর্ষে গিল ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফরিদপুরে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ২৭ রাউন্ড কার্তুজসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলন, নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা ইয়ামালের জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয় জয় স্পেনের শিল্পী তালিকাভুক্তির অডিশন ৩ অক্টোবরও হচ্ছে না

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদের কবলে ভারতেরই সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরা!

ভারতে গো-হত্যা বিরোধী কঠোর আইন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চাপ এবং গরু পরিবহনকে কেন্দ্র করে বাড়তি নজরদারির কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভারতের সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরাই। বিশেষ করে কুরবানির ঈদকে ঘিরে যে সময়টাতে গরুর চাহিদা বৃদ্ধি পেত এবং খামারিরা বছরের সবচেয়ে বড় আয় করতেন, বর্তমানে সেই বাজার অনেক জায়গায় প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।

ভারতের বহু অঞ্চলে হিন্দু খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে গরু লালন-পালন করে কুরবানির ঈদের মৌসুমে বিক্রি করতেন। এতে একদিকে যেমন মাংস শিল্প সচল থাকত, অন্যদিকে গ্রামের হাজারো পরিবার সারা বছরের অর্থনৈতিক ভরসা পেত। কিন্তু এখন বিভিন্ন রাজ্যে গরু বিক্রি, পরিবহন কিংবা জবাই নিয়ে কড়াকড়ি বাড়ায় অনেক খামারি ক্রেতা পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে ভয়-ভীতি, হামলা কিংবা “গোরক্ষক” গোষ্ঠীর বাধার কারণে ব্যবসায়ীরা গরু কিনতেও সাহস করছেন না।

ফলে খামারিদের বড় অংশ মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বছরের পর বছর ধরে লালন করা গরু বিক্রি না হওয়ায় খাবার, চিকিৎসা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকে ঋণ নিয়ে খামার করেছিলেন, কিন্তু গরু বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে যেখানে হতাশ খামারিরা নিজেদের দুর্দশা প্রকাশ করে বলেছেন, “গরু এখন সম্পদ নয়, বোঝা হয়ে গেছে।” কোথাও কোথাও নিরীহ খামারিরা নিজেদের গলায় দড়ি দেবার হুমকিও দিয়েছেন—যার মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে তাদের জীবিকা ধ্বংসের পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কঠোর অবস্থান বাস্তবে ভারতের মাংস শিল্প, পশু বাজার এবং ক্ষুদ্র খামারভিত্তিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই সাধারণ খামারিরাই, যারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন; বরং বছরের পর বছর গবাদিপশু পালন করেই সংসার চালিয়ে এসেছেন।

সমালোচকদের ভাষ্য, বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেবল আবেগনির্ভর নীতি চাপিয়ে দিলে তার ফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে। আর বর্তমানে ভারতের বহু হিন্দু গরু খামারির জীবন সেই বাস্তবতারই একটি কঠিন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের নারী দল ঘোষণা, অধিনায়ক জ্যোতি

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদের কবলে ভারতেরই সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরা!

Update Time : ১২:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ভারতে গো-হত্যা বিরোধী কঠোর আইন, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর চাপ এবং গরু পরিবহনকে কেন্দ্র করে বাড়তি নজরদারির কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ভারতের সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরাই। বিশেষ করে কুরবানির ঈদকে ঘিরে যে সময়টাতে গরুর চাহিদা বৃদ্ধি পেত এবং খামারিরা বছরের সবচেয়ে বড় আয় করতেন, বর্তমানে সেই বাজার অনেক জায়গায় প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায় পৌঁছেছে।

ভারতের বহু অঞ্চলে হিন্দু খামারিরা দীর্ঘদিন ধরে গরু লালন-পালন করে কুরবানির ঈদের মৌসুমে বিক্রি করতেন। এতে একদিকে যেমন মাংস শিল্প সচল থাকত, অন্যদিকে গ্রামের হাজারো পরিবার সারা বছরের অর্থনৈতিক ভরসা পেত। কিন্তু এখন বিভিন্ন রাজ্যে গরু বিক্রি, পরিবহন কিংবা জবাই নিয়ে কড়াকড়ি বাড়ায় অনেক খামারি ক্রেতা পাচ্ছেন না। অনেক স্থানে ভয়-ভীতি, হামলা কিংবা “গোরক্ষক” গোষ্ঠীর বাধার কারণে ব্যবসায়ীরা গরু কিনতেও সাহস করছেন না।

ফলে খামারিদের বড় অংশ মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বছরের পর বছর ধরে লালন করা গরু বিক্রি না হওয়ায় খাবার, চিকিৎসা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেকে ঋণ নিয়ে খামার করেছিলেন, কিন্তু গরু বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই ঋণ পরিশোধ করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে যেখানে হতাশ খামারিরা নিজেদের দুর্দশা প্রকাশ করে বলেছেন, “গরু এখন সম্পদ নয়, বোঝা হয়ে গেছে।” কোথাও কোথাও নিরীহ খামারিরা নিজেদের গলায় দড়ি দেবার হুমকিও দিয়েছেন—যার মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন, রাষ্ট্রীয় নীতির কারণে তাদের জীবিকা ধ্বংসের পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কঠোর অবস্থান বাস্তবে ভারতের মাংস শিল্প, পশু বাজার এবং ক্ষুদ্র খামারভিত্তিক অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই সাধারণ খামারিরাই, যারা কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন; বরং বছরের পর বছর গবাদিপশু পালন করেই সংসার চালিয়ে এসেছেন।

সমালোচকদের ভাষ্য, বাস্তবতা বিবেচনা না করে কেবল আবেগনির্ভর নীতি চাপিয়ে দিলে তার ফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়ে। আর বর্তমানে ভারতের বহু হিন্দু গরু খামারির জীবন সেই বাস্তবতারই একটি কঠিন উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।