ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদের কবলে ভারতেরই সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরা! দেশে চলছে চরম সংকট, অথচ দেশীয় সংবাদপত্রগুলো পড়ে আছে আফগান-পাকিস্তান নিয়ে যশোরে প্রথম ধাপে ফ্যামেলি কার্ডের টাকা পেলেন ২০৪২ উপকারভোগী দেশের সাত এলাকার নদীবন্দর সমূহে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বেনাপোলে ডিম বিক্রেতার মরদেহ উদ্ধার শার্শার বেলতলা বাজারে অপরিপক্ক হিমসাগরের ছড়াছড়ি বেনাপোল বড়আঁচড়ায়  ফেনসিডিলের মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হৃদয়ের ১০ বছর কারাদণ্ড ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলো দুই নারী শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ পরোয়ানাভুক্ত আসামী গ্রেফতার আগামী ২২ মে থেকে নওগাঁয় গুটি জাতের আম সংগ্রহ শুরু

দেশে চলছে চরম সংকট, অথচ দেশীয় সংবাদপত্রগুলো পড়ে আছে আফগান-পাকিস্তান নিয়ে

বাংলাদেশ আজ এক বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন লড়াই করছে নিরাপত্তাহীনতা, চিকিৎসা সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের কিছু সংবাদমাধ্যম যেন জনগণের এই বাস্তব কষ্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিদেশি ইস্যু নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

আফগানিস্তান, পাকিস্তান কিংবা দূরবর্তী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশ্লেষণ হলেও দেশের ভেতরের ভয়াবহ বাস্তবতা অনেক সময় গুরুত্ব পাচ্ছে না।

 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনের শিরোনাম হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। সন্ধ্যার পর অনেক মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতেও ভয় পাচ্ছে। পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে—কখন কোন দুর্ঘটনা বা অপরাধের খবর শুনতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই দেখা যায় কোথাও হত্যা, কোথাও নারী নির্যাতন, কোথাও আবার সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা।

 

চিকিৎসা খাতের অবস্থাও উদ্বেগজনক। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘ লাইন, শয্যা সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে জীবন হারাচ্ছেন। গ্রামের মানুষ এখনও উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু শহরেও চিকিৎসা যেন এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

 

অন্যদিকে, জনগণ আশা করে সংবাদমাধ্যম হবে তাদের কণ্ঠস্বর—যেখানে দেশের বাস্তব সমস্যা, মানুষের কষ্ট, দুর্নীতি, অপরাধ ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হবে নির্ভয়ে ও দায়িত্বশীলভাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক সংবাদমাধ্যম বিদেশি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত। যেন দেশের মানুষের আর্তনাদ অপেক্ষা বিদেশি সংবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে জানানো সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু যখন নিজের দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায়, কিংবা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকে—তখন দেশের বাস্তব সংকটকে পাশ কাটিয়ে অন্য দেশের সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।

 

আজ প্রয়োজন এমন সাংবাদিকতা, যা জনগণের পাশে দাঁড়াবে। যে সাংবাদিকতা সত্যকে সামনে আনবে, মানুষের কষ্টের কথা বলবে এবং দেশের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সচেতনতা তৈরি করবে। কারণ একটি দেশের সংবাদমাধ্যম যদি দেশের বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বাধ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদের কবলে ভারতেরই সাধারণ হিন্দু গরু খামারিরা!

দেশে চলছে চরম সংকট, অথচ দেশীয় সংবাদপত্রগুলো পড়ে আছে আফগান-পাকিস্তান নিয়ে

Update Time : ১২:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশ আজ এক বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন লড়াই করছে নিরাপত্তাহীনতা, চিকিৎসা সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশের কিছু সংবাদমাধ্যম যেন জনগণের এই বাস্তব কষ্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিদেশি ইস্যু নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

 

আফগানিস্তান, পাকিস্তান কিংবা দূরবর্তী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশ্লেষণ হলেও দেশের ভেতরের ভয়াবহ বাস্তবতা অনেক সময় গুরুত্ব পাচ্ছে না।

 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। খুন, ছিনতাই, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনের শিরোনাম হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। সন্ধ্যার পর অনেক মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতেও ভয় পাচ্ছে। পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে—কখন কোন দুর্ঘটনা বা অপরাধের খবর শুনতে হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই দেখা যায় কোথাও হত্যা, কোথাও নারী নির্যাতন, কোথাও আবার সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনা।

 

চিকিৎসা খাতের অবস্থাও উদ্বেগজনক। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘ লাইন, শয্যা সংকট, প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবার অব্যবস্থাপনা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে জীবন হারাচ্ছেন। গ্রামের মানুষ এখনও উন্নত চিকিৎসার জন্য শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে, কিন্তু শহরেও চিকিৎসা যেন এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

 

অন্যদিকে, জনগণ আশা করে সংবাদমাধ্যম হবে তাদের কণ্ঠস্বর—যেখানে দেশের বাস্তব সমস্যা, মানুষের কষ্ট, দুর্নীতি, অপরাধ ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরা হবে নির্ভয়ে ও দায়িত্বশীলভাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক সংবাদমাধ্যম বিদেশি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বা আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত। যেন দেশের মানুষের আর্তনাদ অপেক্ষা বিদেশি সংবাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে জানানো সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু যখন নিজের দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায়, কিংবা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকে—তখন দেশের বাস্তব সংকটকে পাশ কাটিয়ে অন্য দেশের সমস্যা নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করে।

 

আজ প্রয়োজন এমন সাংবাদিকতা, যা জনগণের পাশে দাঁড়াবে। যে সাংবাদিকতা সত্যকে সামনে আনবে, মানুষের কষ্টের কথা বলবে এবং দেশের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সচেতনতা তৈরি করবে। কারণ একটি দেশের সংবাদমাধ্যম যদি দেশের বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যায়, তাহলে জনগণের আস্থা ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বাধ্য।