বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় ২২ বছর বয়সী প্রকৌশলী প্রাঞ্জল থাকরালকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাঞ্জল এ মামলার ১১তম অভিযুক্ত। পুলিশের দাবি, হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বন্দুকধারীদের অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোরে মুম্বাই ও ইন্দোর পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রাঞ্জলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা তাঁকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত অনিল পণ্ডিত এবং হামলায় অংশ নেওয়া বন্দুকধারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হিসেবে দেখছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে হামলা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিলেন প্রাঞ্জল। এ ছাড়া হামলায় অংশ নেওয়া এক বন্দুকধারীকে দ্বিতীয় একটি পিস্তল সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পুলিশের ধারণা, অনিল পণ্ডিত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। বন্দুকধারীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছানো, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা এবং অর্থের জোগান দেওয়ার বিষয়ে প্রাঞ্জলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গোপন বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ ব্যবহার করে অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগ হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জব্দ করা ফোনের তথ্য, কথোপকথন ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
কে এই প্রাঞ্জল থাকরাল?
২২ বছর বয়সী প্রাঞ্জল হরিয়ানার সোনিপাতের বাসিন্দা। প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই তরুণ এর আগে পানিপথে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে তিনি জামিনে মুক্তি পান বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রাঞ্জলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিদেশে অবস্থানরত অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে হামলাকারীদের যোগাযোগ এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলা শেষে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় অভিনেতার গাড়িচালকসহ দুজন আহত হন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পরে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আন্ধেরি এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তের একপর্যায়ে রাজস্থানের কোটা থেকে কয়েকজন সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী অভিযানে প্রাঞ্জলকে আটক করা হলে এ মামলায় গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তির সংখ্যা ১১-তে পৌঁছায়।
হামলার পর অনিল পণ্ডিতের নামে একটি বার্তায় ঘটনার দায় স্বীকারের দাবি সামনে আসে। তবে এ ধরনের দাবি এবং হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
পুলিশের তদন্তে অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
প্রাঞ্জলকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা, অস্ত্র সংগ্রহ এবং অর্থের জোগান সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বিনোদন ডেস্ক 






















