ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীনের বড় জয় ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৮৬ ছাতকে গ্রামপুলিশদের মাঝে বাইসাইকেল, পোশাক ও সরঞ্জাম বিতরণ বান্দরবানে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৬ জনকে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ, পেলেন সনদ ও চিকিৎসাসামগ্রী দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সততা-জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের মেসির ১০ নম্বর জার্সি আলভারেজকে দিতে চান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক রোমেরো জনগণের আস্থা অর্জন করে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট বাতিলের আবেদন খারিজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস) এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য প্রকাশ করেছে একটি তথ্য ফাঁসকারী সংগঠন। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডিওএস) নামের সংগঠনটি ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে এসব তথ্য পেয়েছে। গোষ্ঠীটি ‘আইসপিক’ নামে একটি অনুসন্ধান সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যার সাহায্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম, কর্মস্থল ও দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য খোঁজা যায়।

ডিডিওএসের সঙ্গে যুক্ত কর্মী মাইয়া আরসন ক্রিউ বলেন, তথ্যভান্ডারটির পরিসর ও সম্ভাব্য প্রভাব দুটিই উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থাও রয়েছে।

ডিডিওএসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট এই তথ্য ফাঁসকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে গোপন অভিযান তদারককারী কর্মকর্তা, সরকারি তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং বহিষ্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিএইচএস ও আইসিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানগুলোতে বিপুলসংখ্যক নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব অভিযানে মার্কিন নাগরিকদেরও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএইচএস জানিয়েছে, অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি অনুসরণকারী শহরগুলোতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এসব শহরের অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা করে থাকে।

নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ধৃত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে ডিএইচএস ও এর অধীন আইসিইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে।

কর্মীদের তথ্য প্রকাশের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ফাঁস হওয়া তথ্যের সত্যতা, পূর্ণাঙ্গ পরিসর এবং এর ফলে কোনো নিরাপত্তাজনিত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

Update Time : ১২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস) এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য প্রকাশ করেছে একটি তথ্য ফাঁসকারী সংগঠন। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডিওএস) নামের সংগঠনটি ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে এসব তথ্য পেয়েছে। গোষ্ঠীটি ‘আইসপিক’ নামে একটি অনুসন্ধান সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যার সাহায্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নাম, কর্মস্থল ও দায়িত্ব সম্পর্কে তথ্য খোঁজা যায়।

ডিডিওএসের সঙ্গে যুক্ত কর্মী মাইয়া আরসন ক্রিউ বলেন, তথ্যভান্ডারটির পরিসর ও সম্ভাব্য প্রভাব দুটিই উল্লেখযোগ্য। তাঁর মতে, এসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়। এর মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থাও রয়েছে।

ডিডিওএসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট এই তথ্য ফাঁসকে অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে গোপন অভিযান তদারককারী কর্মকর্তা, সরকারি তথ্য ফাঁসের ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং বহিষ্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ডিএইচএস ও আইসিই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানগুলোতে বিপুলসংখ্যক নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এসব অভিযানে মার্কিন নাগরিকদেরও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ডিএইচএস জানিয়েছে, অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি অনুসরণকারী শহরগুলোতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এসব শহরের অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সীমিত সহযোগিতা করে থাকে।

নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ধৃত পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে ডিএইচএস ও এর অধীন আইসিইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে।

কর্মীদের তথ্য প্রকাশের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ফাঁস হওয়া তথ্যের সত্যতা, পূর্ণাঙ্গ পরিসর এবং এর ফলে কোনো নিরাপত্তাজনিত ক্ষতি হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।