সরকারের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফ্রান্সে আবারও আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থী নেতারা। সোমবার থেকে দেশটির বিভিন্ন হাই স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর নেতারা।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষসহ বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন।
শিক্ষার্থী সংগঠন ‘লিসিঁ!’-এর প্রধান পিয়েরে সুরজাত জানান, দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে সোমবার শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরলেই কয়েকটি হাই স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে।
রোববার সম্প্রচারমাধ্যম আরএমসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে আন্দোলন আরও জোরালো ও বিস্তৃত হবে। তবে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোমবার থেকেই অবরোধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্দোলনে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সুরজাত বলেন, যারা সোমবার থেকে নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ শুরু করবে, তাদের পাশে থাকবে সংগঠনটি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশের অবনতি ও বৈষম্যের প্রতিবাদে হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অসন্তোষও এতে যুক্ত হয়।
গত সোমবার আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি পদক্ষেপের ঘোষণা দেয় ফরাসি সরকার। এসব প্রস্তাবের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন এবং স্কুল সংস্কারের জন্য ঋণের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি ছিল।
তবে সরকারের এসব উদ্যোগকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গত শনিবার ‘ইউনিয়ন এতুদিয়েন্তে’ বা স্টুডেন্ট ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাচ জানান, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাই স্কুলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দাবি করেছেন, তরুণদের বক্তব্য ও দাবিগুলো সরকার শুনেছে। তিনি আন্দোলনকারীদের পরিস্থিতি শান্ত রেখে নিয়মিত ক্লাস কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন পিয়েরে সুরজাত। তাঁর ভাষ্য, সরকার শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দাবি উপলব্ধি করতে পারেনি।
সরকারের ঘোষিত পদক্ষেপগুলোকে লোকদেখানো উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাইরে থেকে আকর্ষণীয় মনে হলেও প্রস্তাবগুলোর ভেতরে কার্যকর সমাধান নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম সংস্কারের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই শিক্ষার্থী নেতা। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে সমালোচিত এই ভর্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনলেও উচ্চশিক্ষায় আসনসংকটের সমাধান হবে না।
এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর সরকারি পরিকল্পনাকেও যথেষ্ট মনে করছেন না আন্দোলনকারীরা। সুরজাতের অভিযোগ, সরকারের প্রস্তাবটি কেবল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। অথচ সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্যই এ পরিবর্তন প্রয়োজন।
এদিকে, ইউরো অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্স অর্থনৈতিক চাপ ও ঋণ কমানোর চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
সরকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতপার্থক্য অব্যাহত থাকায় দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

















