চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ প্রকাশ জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েল ও তার সহযোগী মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭ চট্টগ্রাম।
এছাড়া নগরীর চান্দগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার মামলার এজাহারনামীয় আসামি আলম পাইককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে এবং চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকা থেকে আলম পাইককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আরমানকে।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত আবু ইউসুফ প্রকাশ জীবন (২৭) চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের মোহাম্মদ গোলাম নবীর ছেলে। তিনি পরিবারসহ চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় বসবাস করতেন এবং শেরশাহ এলাকার একটি আইসক্রিম কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
প্রায় তিন-চার মাস আগে প্রধান অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন জীবন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো ছুরি দিয়ে জীবনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। বিশেষ করে ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়। পরে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২৮ অক্টোবর দায়ের করা হয়। পরে এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।
মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তারের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১১, নারায়ণগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার কোতোয়ালি থানাধীন ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি মো. আরমানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম ও এসআরবি-১, ঢাকার যৌথ আভিযানিক দল ২ নভেম্বর রাত ২টা ১০ মিনিটে ঢাকা মহানগরীর ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে (৪০) গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানায় দায়ের করা মো. হাসান হত্যা মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্ত আলম পাইককে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭, চট্টগ্রামের আরেকটি আভিযানিক দল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে চান্দগাঁও থানাধীন আরকান রোডের চাঁদগাঁও হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলম পাইক বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিখানা গ্রামের মো. খলিল পাইকের ছেলে।
চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় ২৬ অক্টোবর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে এসআরবি-৭ সূত্র জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 


















