ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য, জাতিসংঘে বায়োইকোনমি রেজুলেশন গৃহীত জাপানে ভয়াবহ দাবানল; ১২টি হেলিকপ্টার সহ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকলকর্মীরা যশোরের শার্শায় এসএসসিতে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, বিপাকে ১২ শিক্ষার্থী! শার্শা উলাশী খালপাড় এখন সাজসাজ রব, মানুষ অপেক্ষায় আছে তারেক রহমানের ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট দুতের্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন হজযাত্রা শুরুর পর সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ২৭,৩২৫ জন হজযাত্রী মে মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট কেটে যাওয়ার আশা বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের : মুখপাত্র সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোটের ১২ প্রার্থীর মনোয়ন বৈধ, স্থগিত ১ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ : ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বলল চীন

শার্শা উলাশী খালপাড় এখন সাজসাজ রব, মানুষ অপেক্ষায় আছে তারেক রহমানের

দীর্ঘ ৫০ বছরের অবহেলা আর বঞ্চনা পেছনে ফেলে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শার্শার ঐতিহাসিক উলাশী ‘জিয়া খাল’। আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উলাশী আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ।
১৯৭৬ সালের পহেলা নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে যে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, সেই খালের পাড়েই এখন চলছে সাজ সাজ রব। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছিল স্থানীয় কৃষিতে।
স্থানীয় কৃষক মনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী সরকার খালটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বা ভারতের উজান থেকে আসা পানিতে বাড়িঘর ডুবে যেত। খালটি ভরাট হওয়ায় বন্যার পানি নামতে পারত না।
যশোর সিটি কলেজের অনার্স পড়ুয়া  ছাত্র ইমন জানান, খালটি খনন না করায় পানির অভাবে কৃষকরা সময়মতো ফসল ফলাতে পারছে না, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক কামরুজ্জামান মনে করেন, এই খালটি পুনরায় চালু হলে কেবল কৃষি নয়, মৎস্য খাতেও বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, খালটি খনন হলে কৃষকরা যেমন সেচ সুবিধা পাবেন, তেমনি জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে উলাশীর অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাবে।
আরেক শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, এই খালের সাথে রয়েছে ২২টি বিলের সংযোগ। ভারত থেকে পানি আসলে এই খাল দিয়ে নেমে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার এর অভাবে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কারন ভারতে যখন পানির চাপ বেশী হয় তখন তাদের গেট খুলে পানি বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে উলাশী এলাকায় ব্যাপক কর্মব্যস্ততা চলছে সরকারী বিভিন্ন দফতরের লোকজনের। খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে, সংস্কার করা হচ্ছে।
প্রধান মন্ত্রী তারেক জিয়া খাল কাটা উদ্বোধন শেষে খালপাড়ে জনসভায় ভাষন দিরেবন। জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে। খালের পাশের পুরাতন ঘরগুলো রং করা হচ্ছে এবং পাড় পাকাকরণের কাজ চলছে। খালের মাঝখানে পানি না থাকায় সেখানে দর্শকদের বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জন্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, শহীদ জিয়ার হাতে গড়া এই খাল তারেক রহমানের হাত ধরে আবারও সচল হতে যাচ্ছে এটি আমাদের জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং বাঁচার স্বপ্ন। তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে উলাশী জিয়া খাল আবারও উত্তরসূরিদের হাত ধরে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা শার্শাবাসীর।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য, জাতিসংঘে বায়োইকোনমি রেজুলেশন গৃহীত

শার্শা উলাশী খালপাড় এখন সাজসাজ রব, মানুষ অপেক্ষায় আছে তারেক রহমানের

Update Time : ১১:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ ৫০ বছরের অবহেলা আর বঞ্চনা পেছনে ফেলে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শার্শার ঐতিহাসিক উলাশী ‘জিয়া খাল’। আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উলাশী আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনপদে বইছে উৎসবের আমেজ।
১৯৭৬ সালের পহেলা নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে যে বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, সেই খালের পাড়েই এখন চলছে সাজ সাজ রব। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খালটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছিল স্থানীয় কৃষিতে।
স্থানীয় কৃষক মনোয়ার হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, আওয়ামী সরকার খালটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বা ভারতের উজান থেকে আসা পানিতে বাড়িঘর ডুবে যেত। খালটি ভরাট হওয়ায় বন্যার পানি নামতে পারত না।
যশোর সিটি কলেজের অনার্স পড়ুয়া  ছাত্র ইমন জানান, খালটি খনন না করায় পানির অভাবে কৃষকরা সময়মতো ফসল ফলাতে পারছে না, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক কামরুজ্জামান মনে করেন, এই খালটি পুনরায় চালু হলে কেবল কৃষি নয়, মৎস্য খাতেও বিপ্লব ঘটবে। তিনি বলেন, খালটি খনন হলে কৃষকরা যেমন সেচ সুবিধা পাবেন, তেমনি জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। সামগ্রিকভাবে উলাশীর অর্থনৈতিক চেহারা বদলে যাবে।
আরেক শিক্ষক আজিজুল হক বলেন, এই খালের সাথে রয়েছে ২২টি বিলের সংযোগ। ভারত থেকে পানি আসলে এই খাল দিয়ে নেমে যায়। দীর্ঘদিন সংস্কার এর অভাবে এই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কারন ভারতে যখন পানির চাপ বেশী হয় তখন তাদের গেট খুলে পানি বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে উলাশী এলাকায় ব্যাপক কর্মব্যস্ততা চলছে সরকারী বিভিন্ন দফতরের লোকজনের। খালের পাড়ের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে, সংস্কার করা হচ্ছে।
প্রধান মন্ত্রী তারেক জিয়া খাল কাটা উদ্বোধন শেষে খালপাড়ে জনসভায় ভাষন দিরেবন। জনসভার মঞ্চ তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে। খালের পাশের পুরাতন ঘরগুলো রং করা হচ্ছে এবং পাড় পাকাকরণের কাজ চলছে। খালের মাঝখানে পানি না থাকায় সেখানে দর্শকদের বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা জন্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এলাকাটি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, শহীদ জিয়ার হাতে গড়া এই খাল তারেক রহমানের হাত ধরে আবারও সচল হতে যাচ্ছে এটি আমাদের জন্য শুধু একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং বাঁচার স্বপ্ন। তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে উলাশী জিয়া খাল আবারও উত্তরসূরিদের হাত ধরে তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা শার্শাবাসীর।