ঢাকা ০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
জামালগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুবদিবস উদযাপন নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ প্রশাসক ডা. শাহাদাতের কেশবপুরে স্যালোমেশিনের পানির গর্ত থেকে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার যশোরে লংমার্চের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: সাত দফা মানুন, নইলে এক দফার আন্দোলন ইটনায় নৌকায় সার পাচারের সময় ১০৮ বস্তা সার জব্দ, আটক নেই কেউ পাথরঘাটায় দুটি অবৈধ ট্রলিং বোটসহ ২১ জেলে আটক ওস্তাদ আজিজুল ইসলামের বাঁশির সুরে মুগ্ধ চট্টগ্রামের দর্শক-শ্রোতা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজির দায়িত্বে ছিলেন সানি, নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দেওয়া আফিয়া মাসুমা পেল এ গ্রেড টলিউডে ফেডারেশনের নির্বাচন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, ভোটপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখলেন মিঠুন চক্রবর্তী

যশোরের শার্শায় এসএসসিতে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, বিপাকে ১২ শিক্ষার্থী!

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে (কেন্দ্র নম্বর-৫৩১) এসএসসি ২০২৬ সালের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
এতে ১২ জন শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং তাদের ফলাফল নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনসহ দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কিউ.এম নুরুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় ওইদিন কেন্দ্রের ২০৬ নম্বর কক্ষে ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী বুঝতে পারে, সে চলতি বছরের (২০২৬) সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরে বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলে একে একে আরও ১১ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ত্যাগ করতে বলেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও ফলাফল নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছে-একই কেন্দ্রের একই কক্ষে একই বিষয়ের দুটি ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে এল? দায়িত্বে থাকা হল সুপার, কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকরা কেন আগে থেকে প্রশ্নপত্র যাচাই করেননি? এ ঘটনার দায়ভার কে নেবে?
অভিভাবকরাও এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এমন গুরুতর অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
 সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, “কীভাবে একই কক্ষে ভিন্ন প্রশ্নপত্র সরবরাহ হলো, তা আমরাও বুঝতে পারছি না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত ১২ শিক্ষার্থীর বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।”
শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান জানান, ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া উক্ত শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়া হয়েছে। তারা বলেছে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা ভাল হয়েছে। সেহেতু উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাগণ মিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা আমলে নিয়ে তাদের খাতাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মমাফিক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে তাদের ফলাফল নিয়ে কোন শঙ্কা থাকছেনা।
বিষয়টি জানতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের কাছে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জামালগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় যুবদিবস উদযাপন

যশোরের শার্শায় এসএসসিতে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা, বিপাকে ১২ শিক্ষার্থী!

Update Time : ১১:৪০:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে (কেন্দ্র নম্বর-৫৩১) এসএসসি ২০২৬ সালের বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়ার গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
এতে ১২ জন শিক্ষার্থী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং তাদের ফলাফল নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনসহ দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কিউ.এম নুরুজ্জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ধারাবাহিকতায় ওইদিন কেন্দ্রের ২০৬ নম্বর কক্ষে ২৩ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে একজন শিক্ষার্থী বুঝতে পারে, সে চলতি বছরের (২০২৬) সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরে বিষয়টি শিক্ষকদের জানানো হলে একে একে আরও ১১ জন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ ও হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ত্যাগ করতে বলেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও ফলাফল নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছে-একই কেন্দ্রের একই কক্ষে একই বিষয়ের দুটি ভিন্ন প্রশ্নপত্র কীভাবে এল? দায়িত্বে থাকা হল সুপার, কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকরা কেন আগে থেকে প্রশ্নপত্র যাচাই করেননি? এ ঘটনার দায়ভার কে নেবে?
অভিভাবকরাও এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এমন গুরুতর অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
 সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন বলেন, “কীভাবে একই কক্ষে ভিন্ন প্রশ্নপত্র সরবরাহ হলো, তা আমরাও বুঝতে পারছি না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত ১২ শিক্ষার্থীর বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।”
শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নুরুজ্জামান জানান, ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া উক্ত শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়া হয়েছে। তারা বলেছে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা ভাল হয়েছে। সেহেতু উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাগণ মিলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা আমলে নিয়ে তাদের খাতাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মমাফিক মূল্যায়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। এতে তাদের ফলাফল নিয়ে কোন শঙ্কা থাকছেনা।
বিষয়টি জানতে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদের কাছে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষাব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।