বাংলাদেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) জুন মাসের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে এবং দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। রাজশাহীতে চলতি বছরের সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের কারণে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। খোলা আকাশের নিচে কর্মরত শ্রমিক, রিকশাচালক, কৃষক ও নির্মাণশ্রমিকরা তীব্র তাপদাহে কাজ করতে গিয়ে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পর্যাপ্ত পানি পান, রোদে অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা এড়িয়ে চলা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিরাজমান উষ্ণ আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ ধরনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে মাসের বিভিন্ন সময়ে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা প্রকাশ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে আবহাওয়া সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
জহুরুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক 








