রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের নাব্যতা ও পরিবেশগত সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননসহ ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। একই সঙ্গে লেকের পাশে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ধানমন্ডি লেকের পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম এবং ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছিল তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার। সংশ্লিষ্ট দুটি প্রকল্প অনুমোদনের পর এর প্রথম ধাপ হিসেবে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বিস্তারিত নকশা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে লেকের সার্বিক সংস্কার করা হবে।
লেকের পরিবেশ রক্ষায় দর্শনার্থী ও আশপাশের বাসিন্দাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, স্লাজ অপসারণের পর লেকের পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার এবং ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ করা হবে। পাশাপাশি ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নেও নেওয়া হবে বিভিন্ন উদ্যোগ।
তিনি জানান, শিশুদের বিনোদনের জন্য স্পিডবোটের ব্যবস্থার পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবরের আদলে ধানমন্ডি লেকের পাশে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
৭৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান
ধানমন্ডি লেককে আধুনিক বিনোদন ও নাগরিক সুবিধার কেন্দ্রে পরিণত করতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও গড়ে ৫৬ মিটার প্রশস্ত লেকটির তলদেশ থেকে কাদা ও বর্জ্য অপসারণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকা।
এক বছর মেয়াদি এই কাজে দুটি ভাসমান এক্সকেভেটর ও চারটি বার্জ ব্যবহার করে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৪ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
৫১ কাঠা জমিতে ‘নজরুল সরোবর’
মাস্টারপ্ল্যানের অন্যতম আকর্ষণ ‘নজরুল সরোবর’। কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের বিপরীতে ধানমন্ডির ১৩/এ ও ৮/এ সড়কের পাশে প্রায় ৫০ দশমিক ৯৬৭ কাঠা জমিতে এটি নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রে থাকবে উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার, লাইব্রেরি, নগর বন এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের পছন্দের খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ রেস্তোরাঁ।
এ ছাড়া লেককেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় তিনটি ভাসমান ডেক, আধুনিক জিম, ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাডমিন্টন কোর্ট, উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার, গাছের পরিচর্যার জন্য ‘ট্রি হাসপাতাল’, সিসিটিভি ক্যামেরা, সীমানা বেষ্টনী ও পার্কিং সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, লেকের তলদেশ থেকে স্লাজ অপসারণ শেষ হওয়ার পর মূল সংস্কারকাজ এবং ‘নজরুল সরোবর’ নির্মাণের কাজ একযোগে এগিয়ে নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















