ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
জামালগঞ্জে উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রেড ক্রিসেন্টের ১২ দিনব্যাপী কর্মসূচি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ অক্টোবর সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিপস তৈরি, কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব, সিআরএফের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠক: ৩১ অক্টোবরের লংমার্চ ঘিরে প্রস্তুতি ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল মেনে নিল বলসোনারোর দল, পরাজয় নিয়ে আপত্তি ফ্লাভিওর ইসরাইলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের পরীক্ষা আজ ট্রাভেল পারমিটে দুই বছর বয়সী সন্তানসহ দেশে ফিরলেন দম্পতি চট্টগ্রামে উদ্ধার ১০৭ মোবাইল ফোন, মালিকদের কাছে হস্তান্তর
প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি জোরদারে গুরুত্ব

ঢাকায় আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা সেমিনার শুরু, অংশ নিচ্ছে ২০ দেশের প্রতিনিধিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ Time View

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা সেমিনার। সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন শুরু হয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারের উদ্বোধন করেন।

এ বছরের সেমিনারের প্রতিপাদ্য—‘টেকনোলজি, ট্রেইনিং অ্যান্ড টিমওয়ার্ক: ক্রিয়েটিং আ ফিউচার-রেডি সেফটি মাইন্ডসেট’। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এ ধরনের সেমিনার অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করা সম্ভব।

অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দিয়েছেন।

দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে সেমিনারটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন। আলোচনায় রয়েছে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান বা হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রম।

এ ছাড়া ভবিষ্যতের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসরণযোগ্য নিরাপত্তা চর্চা নিয়েও মতবিনিময় হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সেমিনারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্স, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও সেমিনারে যোগ দিয়েছেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সেমিনার আগামী ২৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালগঞ্জে উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও দলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে ফ্লাইট সেফটি জোরদারে গুরুত্ব

ঢাকায় আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা সেমিনার শুরু, অংশ নিচ্ছে ২০ দেশের প্রতিনিধিরা

Update Time : ০৬:৫০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ফ্লাইট সেফটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন নিরাপত্তা সেমিনার। সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) যৌথ ব্যবস্থাপনায় এ আয়োজন শুরু হয়।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে সেমিনারের উদ্বোধন করেন।

এ বছরের সেমিনারের প্রতিপাদ্য—‘টেকনোলজি, ট্রেইনিং অ্যান্ড টিমওয়ার্ক: ক্রিয়েটিং আ ফিউচার-রেডি সেফটি মাইন্ডসেট’। এতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, দলগত কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, বিমান চলাচল খাতে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, যথাযথ প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ফ্লাইট সেফটি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং দলগত কার্যক্রমের সমন্বিত প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক এ ধরনের সেমিনার অংশগ্রহণকারী দেশ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং সর্বোত্তম চর্চা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করা সম্ভব।

অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, জর্ডান, মরক্কো, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কাতার, কুয়েত, রাশিয়া, সুদান, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জিম্বাবুয়ের বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দিয়েছেন।

দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে সেমিনারটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ফ্লাইট সেফটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন। আলোচনায় রয়েছে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, মানবিক উপাদান বা হিউম্যান ফ্যাক্টর, সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এসএমএস), মানব-প্রযুক্তির সমন্বয় এবং দলগত কার্যক্রম।

এ ছাড়া ভবিষ্যতের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা, উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসরণযোগ্য নিরাপত্তা চর্চা নিয়েও মতবিনিময় হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই বিমান চলাচল নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

সেমিনারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্স, ফ্লাইং একাডেমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জরিপ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও সেমিনারে যোগ দিয়েছেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সেমিনার আগামী ২৮ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।