দেশে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হলেও পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জৈব সার উৎপাদন ও ব্যবহারে সরকারি ভর্তুকি, আর্থিক প্রণোদনা এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘সুস্থ মাটি, ফসল ও পরিবেশের জন্য জৈব সার উৎপাদনে উৎসাহ ও ভর্তুকি প্রদান’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
একশনএইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (বারি) ২০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে কৃষি বিশেষজ্ঞ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কৃষক ও জৈব সার উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, দেশে জৈব সার উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বিশেষ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার জটিলতা, মান যাচাইয়ের দুর্বল ব্যবস্থা এবং বাজারে মানসম্মত জৈব সারের অপর্যাপ্ত সরবরাহ এ খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
কৃষক ও উদ্যোক্তারা তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাত করতে গিয়ে নানা প্রশাসনিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পাশাপাশি কার্যকর মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকির অভাবে ভোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জৈব সার ব্যবহারে তাৎক্ষণিক ফলন রাসায়নিক সারের তুলনায় কম হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য, উর্বরতা ও ফসলের গুণগত মান বজায় রাখতে জৈব সারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাসায়নিক সার সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে মাটি পরীক্ষা ও ফসলের চাহিদা অনুযায়ী জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রথম কারিগরি অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এম. আবদুস সালাম। তিনি জৈব সার উদ্যোক্তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ প্রক্রিয়া সহজ ও কৃষিবান্ধব করতে সংশ্লিষ্টদের মতামত আহ্বান জানান।
বৈঠকে জৈব সার উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনা, মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সার প্রয়োগের মাত্রা নির্ধারণ এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো এবং জৈব সারের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জৈব সার খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ, উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ নিবন্ধন ব্যবস্থা, সহায়ক নীতিমালা, আর্থিক প্রণোদনা এবং মান নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, পরিকল্পিতভাবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে যেমন মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশে টেকসই কৃষিব্যবস্থার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 




















