ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নালিয়ার দোলায় চেয়ে স্থানীয়দের মানববন্ধন যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে এখন প্রবাহমান রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে নিহত ২ ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৪০ কাপ্তান বাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার বাংলা কিউআরে লেনদেন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ, অর্থের পরিমাণ তিনগুণ দুই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ডিএমএফ কোর্স চলছে, নিয়োগে অনিশ্চয়তা: SACMO পদ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ কতদূর? শার্শায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, ‘শিবিরের কর্মীরা মেধাবী ও উত্তম চরিত্রের’–এমপি আজীজুর রহমান খুচরা সার বিক্রির অভিযোগে কুড়িগ্রামে ডিলারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে এখন প্রবাহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমানের স্মৃতি বিজড়িত যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খালের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশী জিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে শুরু হয় খাল খননের কাজ। এক সময় খননের কাজ সমাপ্ত হয়, তারপরই প্রাণ ফিরে পায় জিয়া খালটি।
প্রায় দীর্ঘ অর্ধশত বছর পর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে কাটা উলাশী জিয়া খাল দ্বিতীয়বার পুনঃখনন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় দফা খাল খননের কারণে ভরা বর্ষা মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ২২ টি খালে এবার জলবদ্ধতা হয়নি। যে কারণে সোনামুখি ও বনমান্দার বিলের কয়েক হাজার একর জমিতে কৃষক আমন ধান রোপণ করতে পেয়েছেন। খাল খননের ফলে চলতি বছরে বর্ষা মৌসুমে সোনামুখি, কামান্দারসহ শার্শা উপজেলায় ২২টি ছোট বড় বিলের পানি জিয়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে। তাই বর্ষায় পানি প্রবাহ থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জেলেরা উলাশী জিয়া খালে মাছ ধরছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা জিয়া খালের পানি ফসলের ক্ষেতে সেচ কাজে ব্যবহার করবে বলে ভাবছেন।
গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শার্শার উলাশীতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উলাশী খাল খনন করেন। প্রায় ৫০ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খালের প্রাণ ফিরে পাওয়ায় এ খাল দেখতে এখন বিভিন্ন এলকা থেকে মানুষ আসছেন।
জিয়া খাল পুনঃখননের আগে উলাশী খাল পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের যশোরের উন্নয়নের চাকা নতুন করে সচল হবে। বিগত ১৭ বছরে যশোরসহ শার্শার উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল। এখন তা ফের গতি পাবে।
উলাশী জিয়া খাল এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এখন জিয়া খালের পানিতে স্রোত বইছে। শিশু, কিশোর, যুবকরা খালের পানিতে গোসল করছে, সাঁতার কাটছে ও মাছ ধরছে।
স্থানীয়রা জানান, জিয়া খালের পাশেই একটি বেতনা নদী ছিলো। সেই বেতনা নদীর পানি এই খালে প্রবাহিত হতো। কিন্তু সেই বেতনা নদী এখনও বেদখল হয়ে আছে। নদী দখলমুক্ত করতে পারলে খাল খননের সুফল এলাকার মানুষ পুরোপুরি পাবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন উলাশী জিয়া খাল খনন না করায় খালের নাব্যতা হারিয়ে গিয়েছিল। খাল খননের ফলে এখন শার্শার সোনামুখি ও বনমান্দারসহ অনেক বিলে ভরা বর্ষা মৌসুমেও পানিবদ্ধতা নেই। ফলে এসব বিলে সাধারণ প্রান্তিক চাষিরা আমন ধান রোপণ করতে পারছেন। তিনি আরও বলেন, শার্শায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৪শত ৪৮ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নালিয়ার দোলায় চেয়ে স্থানীয়দের মানববন্ধন

যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে এখন প্রবাহমান

Update Time : ১১:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার রহমানের স্মৃতি বিজড়িত যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খালের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশী জিয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে শুরু হয় খাল খননের কাজ। এক সময় খননের কাজ সমাপ্ত হয়, তারপরই প্রাণ ফিরে পায় জিয়া খালটি।
প্রায় দীর্ঘ অর্ধশত বছর পর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে কাটা উলাশী জিয়া খাল দ্বিতীয়বার পুনঃখনন করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিতীয় দফা খাল খননের কারণে ভরা বর্ষা মৌসুমে শার্শা উপজেলায় ২২ টি খালে এবার জলবদ্ধতা হয়নি। যে কারণে সোনামুখি ও বনমান্দার বিলের কয়েক হাজার একর জমিতে কৃষক আমন ধান রোপণ করতে পেয়েছেন। খাল খননের ফলে চলতি বছরে বর্ষা মৌসুমে সোনামুখি, কামান্দারসহ শার্শা উপজেলায় ২২টি ছোট বড় বিলের পানি জিয়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হচ্ছে। তাই বর্ষায় পানি প্রবাহ থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জেলেরা উলাশী জিয়া খালে মাছ ধরছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা জিয়া খালের পানি ফসলের ক্ষেতে সেচ কাজে ব্যবহার করবে বলে ভাবছেন।
গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শার্শার উলাশীতে প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে উলাশী খাল খনন করেন। প্রায় ৫০ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন করলেন তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খালের প্রাণ ফিরে পাওয়ায় এ খাল দেখতে এখন বিভিন্ন এলকা থেকে মানুষ আসছেন।
জিয়া খাল পুনঃখননের আগে উলাশী খাল পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছিলেন, উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের যশোরের উন্নয়নের চাকা নতুন করে সচল হবে। বিগত ১৭ বছরে যশোরসহ শার্শার উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল। এখন তা ফের গতি পাবে।
উলাশী জিয়া খাল এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এখন জিয়া খালের পানিতে স্রোত বইছে। শিশু, কিশোর, যুবকরা খালের পানিতে গোসল করছে, সাঁতার কাটছে ও মাছ ধরছে।
স্থানীয়রা জানান, জিয়া খালের পাশেই একটি বেতনা নদী ছিলো। সেই বেতনা নদীর পানি এই খালে প্রবাহিত হতো। কিন্তু সেই বেতনা নদী এখনও বেদখল হয়ে আছে। নদী দখলমুক্ত করতে পারলে খাল খননের সুফল এলাকার মানুষ পুরোপুরি পাবে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইস্তেহারে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশী জিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, দীর্ঘদিন উলাশী জিয়া খাল খনন না করায় খালের নাব্যতা হারিয়ে গিয়েছিল। খাল খননের ফলে এখন শার্শার সোনামুখি ও বনমান্দারসহ অনেক বিলে ভরা বর্ষা মৌসুমেও পানিবদ্ধতা নেই। ফলে এসব বিলে সাধারণ প্রান্তিক চাষিরা আমন ধান রোপণ করতে পারছেন। তিনি আরও বলেন, শার্শায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৪শত ৪৮ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হচ্ছে। এরইমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।