প্রবাসে বসবাসরত মাদারীপুর জেলার মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইতালির ফিরেন্সে বসবাসরত মাদারীপুরবাসীদের সংগঠন মাদারীপুর কমিউনিটি, ফিরেন্স-এর উদ্যোগে বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) ইতালির রাভেন্নায় অবস্থিত জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র Mirabilandia-তে দিনব্যাপী এ বনভোজনের আয়োজন করা হয়। এতে কমিউনিটির সদস্য, তাদের পরিবার ও শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করেন।
বনভোজনকে ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হয়ে সবাই আনন্দ-আড্ডা, পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, আবার শিশু-কিশোরদের ব্যস্ততা ছিল বিভিন্ন রাইড ও বিনোদন আয়োজন ঘিরে।
দিনভর হাসি-আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো আয়োজন। প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝেও নিজ জেলার মানুষের সঙ্গে এমন একটি দিন কাটানোর সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ বনভোজনের মূল উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়; বরং প্রবাসে মাদারীপুর জেলার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের জেলা, শেকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের একজন বলেন, “প্রবাসে থেকেও আমরা যেন নিজেদের শেকড়কে ভুলে না যাই—এ ধরনের আয়োজন আমাদের সেই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। নতুন প্রজন্মও এতে নিজেদের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।”
আয়োজকদের ভাষ্য, “আমরা দেশ থেকে অনেক দূরে থাকলেও আমাদের শেকড় মাদারীপুরে। সেই শেকড়ের টানেই সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এমন আয়োজন করা। আগামী প্রজন্ম যেন নিজেদের পরিচয় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে—সেটিও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”
বনভোজনের মাধ্যমে ফিরেন্সে বসবাসরত মাদারীপুরবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও মাদারীপুর কমিউনিটি, ফিরেন্সের উদ্যোগে এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে কমিউনিটির সদস্যরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রেখে প্রবাসে মাদারীপুরের মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, প্রবাসে নিজেদের এলাকার মানুষের সঙ্গে এমন সম্পর্ক ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করবে।
বনভোজনকে ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি অনেকেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। দিনশেষে আনন্দের স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে সবাই ফিরে যান নিজ নিজ গন্তব্যে।
ফিরেন্স, ইতালি 

















