মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মারাকেশের মেয়র ফাতিমা এজাহরা আল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ।
রাজকীয় মন্ত্রিসভার ঘোষণায় বলা হয়েছে, ৫০ বছর বয়সী আল মানসুরির দল অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল র্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের (আরএনআই) চেয়ে দলটি ৩১টি আসন বেশি পেয়েছে।
তবে পিএএম একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনে দলটিকে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করতে হবে।
নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আল মানসুরি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দেশের নারীদের জন্যও গর্বের বিষয়।
আল মানসুরি ২০০৮ সালে পিএএমে যোগ দেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রথম নারী হিসেবে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন। পরে মেয়রের পদ হারালেও ২০২১ সালে আবারও ওই দায়িত্বে ফেরেন। এর আগে তিনি আবাসনমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।
নতুন সরকারের সামনে রয়েছে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ। বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক বৈষম্য—বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে—সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
আল মানসুরি জানিয়েছেন, তরুণসহ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পিএএম নির্বাচনী প্রচারে পাঁচ বছরে গড়ে ৫ শতাংশ বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে রাখার পাশাপাশি অন্তত ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
নির্বাচনে পিএএমের পর আরএনআই ৬৬টি এবং ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন পেয়েছে। ইসলামপন্থী জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) পেয়েছে ৫৪টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে মাত্র ১৩টি আসন পাওয়া দলটির এবার উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তন হয়েছে।
পিজেডির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী আবদেলিলাহ বেনকিরানে ফলাফলকে দলের ‘বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে পিএএমের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেছেন। পিএএমের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তিনি, যদিও অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
এদিকে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে ছিল। নির্বাচনের আগে দেশটিতে তরুণদের আর্থসামাজিক হতাশা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
আল মানসুরি বলেছেন, নতুন সরকারের কাজ শুরু হচ্ছে এখনই। প্রথমে নিজ দলের সঙ্গে আলোচনা এবং পরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















