কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতুর পাশে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীর ঘেঁষে বালু উত্তোলনের কারণে নির্মাণাধীন সেতু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীর রক্ষা বাঁধ, নদীপাড়ের বসতভিটা ও ফসলি জমি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো একটি রেল সেতু রয়েছে। সেতুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এর দক্ষিণ পাশে ২০১৯ সালে ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে পাউবোর তীর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকায় তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র নিয়মিত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরের কাছ থেকে এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তীর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান, রফিকুল ও জালালসহ কয়েকজন জানান, সোনাহাট সেতুর পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে দুধকুমার নদের ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর উদ্যোগে ব্লক দিয়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই ব্লকের পাশেই এবং নির্মাণাধীন সেতুর পশ্চিম পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে তীর রক্ষা ব্লকগুলো স্থানচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ভারী বৃষ্টিপাতের সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তীর ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। এতে নির্মাণাধীন সেতুর পাশাপাশি নদীপাড়ের বসতভিটা ও ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলেও জানান স্থানীয়রা।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমার নিজস্ব পুকুরের তলা সমান করার জন্য আমার একটি ড্রেজার চলছে।”
অভিযোগে নাম আসা আলম হোসেন বলেন, তাঁর ড্রেজার কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তিনি ড্রেজারটি সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানান।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “এটা বন্ধ করা পুলিশের কাজ না। প্রশাসন চাইলে আমরা পুলিশ দিয়ে সহযোগিতা দিতে পারবো।”
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ জানান, বিষয়টি নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণাধীন সেতু ও তীর রক্ষা বাঁধের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি 











