ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ, মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ যশোরের শার্শায় চোর সন্দেহে আটক ৬, আদালতে সোপর্দ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান সিডনিতে নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম ফ্লাইট, ব্যয় ৫৩০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার চমাশিহা মেডিকেল কলেজ অ্যালামনির পথচলা শুরু, প্রথম কমিটি ঘোষণা নজরুলের আদর্শে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: প্রতিমন্ত্রী যশোরে শার্শায় দাদার বিরুদ্ধে  নাতিকে ধর্ষণের অভিযোগ বোয়ালখালীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন এমপি এরশাদ উল্লাহ শার্শায় গাঁজা ও বিদেশি মদসহ আটক, কারবারির ৩ বছরের কারাদণ্ড

বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

যশোরের বেনাপোলের বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লিসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

এলাকার লোকজন জানান, পানিতে তলিয়ে আছে সড়কের একটি অংশ। কোথাও আবার তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন ও পথচারীরা। যশোরের শার্শা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা গ্রামের পাঁকা সড়কের মাঝামাঝি অংশে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এই সড়ক দিয়ে ভবেরবেড়, রাজাপুর, শিকড়ী, গয়ড়া, বালুন্ডাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় সড়কটির ওই অংশ। এতে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পানির নিচে থাকা গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কে পানি জমে থাকায় এলাকার লোকজনের প্রতিদিন চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে এলাকার লোকজন জানান।

দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি তাদের। সড়কটি বর্তমানে অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হওয়ায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

ফারহান নামের পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের অনেক স্থানে পানি জমে আছে। আমাদের পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় পানিতে আমাদের বই, জামা কাপড় নস্ট হয়ে যায়। আমরা দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি করছি।

 

আমিন উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ বলেন, এই সড়কটি এত খারাপ না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। কাঁদা পানিতে আমাদের অনেক কস্ট হচ্ছে। সাইকেল, ভ্যান, রিক্সাও চলে না। হেটে হেটে বাজারে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি কস্ট হয় স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের। সরকারের কাছে সড়কটি মেরামতে দাবি জানাচ্ছি।

 

এ এলাকার ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত রিক্সা) চালক তরিকুল ইসলাম জানান, এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কস্ট হচ্ছে। এখানে সব সময় হাটু পানি জমে থাকে। এ সড়কে গাড়ি নিয়ে চলাচল করলে মোটরে (ইঞ্জিন) পানি ঢুকে নস্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বাজারে ইজিবাইক রেখে হেটে বাড়ি যাই, আবার হেটে বাজারে এসে ইজিবাইক চালাই। সড়কটি ভাল হলে এলাকার মানুষের উপকারের পাশাপাশি আমাদের আয়ও বাড়বে। খুব কস্টে আছি। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা হোক।

 

যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী মো: নজরুল ইসলাম জানান, এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে এলাকার লোকজনের কস্ট হচ্ছে। কস্ট লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করে সমস্যার সমাধান করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ, মাঠে নামছে জেলা প্রশাসন

বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা সড়কে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

Update Time : ১২:৩০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

যশোরের বেনাপোলের বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লিসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

এলাকার লোকজন জানান, পানিতে তলিয়ে আছে সড়কের একটি অংশ। কোথাও আবার তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন ও পথচারীরা। যশোরের শার্শা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল-খড়িডাঙ্গা গ্রামের পাঁকা সড়কের মাঝামাঝি অংশে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এই সড়ক দিয়ে ভবেরবেড়, রাজাপুর, শিকড়ী, গয়ড়া, বালুন্ডাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় সড়কটির ওই অংশ। এতে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী, কৃষক, মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। পানির নিচে থাকা গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কে পানি জমে থাকায় এলাকার লোকজনের প্রতিদিন চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে এলাকার লোকজন জানান।

দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি তাদের। সড়কটি বর্তমানে অনেকটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হওয়ায় ভোগান্তি বেড়ে যায়। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

ফারহান নামের পঞ্চম শ্রেনীর এক ছাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের অনেক স্থানে পানি জমে আছে। আমাদের পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় পানিতে আমাদের বই, জামা কাপড় নস্ট হয়ে যায়। আমরা দ্রুত সড়কটি মেরামতের দাবি করছি।

 

আমিন উদ্দিন নামের এক বৃদ্ধ বলেন, এই সড়কটি এত খারাপ না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না। কাঁদা পানিতে আমাদের অনেক কস্ট হচ্ছে। সাইকেল, ভ্যান, রিক্সাও চলে না। হেটে হেটে বাজারে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি কস্ট হয় স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের। সরকারের কাছে সড়কটি মেরামতে দাবি জানাচ্ছি।

 

এ এলাকার ইজিবাইক (ব্যাটারিচালিত রিক্সা) চালক তরিকুল ইসলাম জানান, এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কস্ট হচ্ছে। এখানে সব সময় হাটু পানি জমে থাকে। এ সড়কে গাড়ি নিয়ে চলাচল করলে মোটরে (ইঞ্জিন) পানি ঢুকে নস্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে বাজারে ইজিবাইক রেখে হেটে বাড়ি যাই, আবার হেটে বাজারে এসে ইজিবাইক চালাই। সড়কটি ভাল হলে এলাকার মানুষের উপকারের পাশাপাশি আমাদের আয়ও বাড়বে। খুব কস্টে আছি। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা হোক।

 

যশোরের শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী মো: নজরুল ইসলাম জানান, এ রাস্তা দিয়ে চলাচলে এলাকার লোকজনের কস্ট হচ্ছে। কস্ট লাঘবে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। অচিরেই কাজ শুরু করে সমস্যার সমাধান করা হবে।