ঢাকা ১১:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীনের বড় জয় ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৮৬ ছাতকে গ্রামপুলিশদের মাঝে বাইসাইকেল, পোশাক ও সরঞ্জাম বিতরণ বান্দরবানে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১৬ জনকে ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ, পেলেন সনদ ও চিকিৎসাসামগ্রী দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সততা-জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের মেসির ১০ নম্বর জার্সি আলভারেজকে দিতে চান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক রোমেরো জনগণের আস্থা অর্জন করে ‘জনগণের পুলিশ’ হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ভোটারের ব্যালট বাতিলের আবেদন খারিজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সততা-জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সর্বস্তরে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে ইভটিজিংসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিক্ষাঙ্গণ থেকে জাতীয় ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি আধুনিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ জন্য পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে। দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো জরুরি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তরুণ প্রজন্মের সাহস, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ

শিক্ষাঙ্গণের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়; বরং সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সঠিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এসব সমস্যা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। মাতৃভাষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রতিও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ গঠনের আহ্বান

জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষাঙ্গণে সুস্থ বিতর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের চিন্তা, মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যের দিকে তোমাদের বাবা-মায়ের পাশাপাশি গোটা জাতি তাকিয়ে আছে। নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। আসুন, সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি।’

জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জি কে গউছ, পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মজীদ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Editorial Desk

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সততা-জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

Update Time : ০৩:১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সমাজের সর্বস্তরে সততা, জবাবদিহি ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে ইভটিজিংসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘শিক্ষাঙ্গণ থেকে জাতীয় ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আধুনিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশের পথপ্রদর্শক। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি আধুনিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ জন্য পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে দক্ষ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিসিএস কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে। দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো জরুরি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তরুণ প্রজন্মের সাহস, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কিশোর গ্যাং ও মাদক প্রতিরোধে সহশিক্ষা কার্যক্রম বাড়ানোর তাগিদ

শিক্ষাঙ্গণের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়; বরং সুনাগরিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। সঠিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এসব সমস্যা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। মাতৃভাষার পাশাপাশি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের প্রতিও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের আচরণ, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ গঠনের আহ্বান

জাতীয় উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শিক্ষাঙ্গণে সুস্থ বিতর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও গঠনমূলক মতবিনিময়ের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় ভাবনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের চিন্তা, মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যের দিকে তোমাদের বাবা-মায়ের পাশাপাশি গোটা জাতি তাকিয়ে আছে। নিজেদের যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো। আসুন, সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলি।’

জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জি কে গউছ, পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মজীদ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আরও পড়ুন: